রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘একলা চলো’ নীতিতে বিএনপি, হাল ছেড়ে দিয়েছে শরিকরাও



‘একলা চলো’ নীতিতে বিএনপি, হাল ছেড়ে দিয়েছে শরিকরাও


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.03.2021

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও এখনো কোনো কর্মসূচিতে নেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ দলই।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত ১ মার্চ বিএনপির কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অন্যসব শরিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ১৩ মার্চ আলোচনা সভাসহ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এমনিতেই ২০ দলের শরিক দলগুলোর অধিকাংশেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা বিএনপির কাঁধে ভর করে তরী পার হতে চায়। অন্যদিকে জোটের অংশ ঠিক রাখতে গিয়ে জোট ত্যাগ করা দলগুলোর এমন সব নেতাকে নিয়ে নতুন দল বানানো হয়েছে, যাদের নিজেদের দলের একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি লেখারও কোনো যোগ্যতা নেই। এ সব দল নিয়ে বিএনপি কী করতে চায় তা বিএনপিও জানে না।’

অন্যদিকে জোটের শরিক বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ন্যাপ ভাসানী, এনডিপি (ক্বারী তাহের), সাম্যবাদী দল, পিপলস লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএলসহ অনেক দলেরই কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে জাগো নিউজকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমাদের ছোট দল, এ মুহূর্তে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনের মতো সামর্থ্য নেই। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা অর্ধশত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানাবো। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা আমাদের সাথে থাকবেন। আমরা শিগগিরই এ কর্মসূচির তারিখ জানিয়ে দেব।’

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমাদের ২০ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচি নেই। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে ২৬ মার্চে ঢাকায় শোভাযাত্রা, মার্চের মাঝামাঝি ঢাকায় সমাবেশ করব। এছাড়া সারাদেশে দোয়া মাহফিল হবে। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই কর্মসূচি ঘোষণা হবে।’

ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির-এনপিপি (একাংশ) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘স্বাধীনতা আমাদের সবার ব্যাপার। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কর্মসূচি রয়েছে। শিগগিরই আমরা সংবাদ সম্মেলনে অথবা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত করব।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমাদের দলের পক্ষ থেকে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই জানানো হবে।’

জাগপা অপরাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের দলীয় ফোরামে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির একাংশের (অলি) দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর ফারুক সুমন বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী ১৩ মার্চ রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আমরা আলোচনা সভার আয়োজন করেছি।’

এলডিপির অপর অংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ আমাদের দলের কর্মসূচি রয়েছে।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আল-আমিন ভূঁইয়া রিপন জানান তারাও কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) অংশের মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা কর্মসূচি পালন করব। কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের প্রেসিডিয়াম সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তারপর আমরা ঘোষণা দেব।’

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের প্রেসিডেন্ট ইন্তেকাল করেছেন, যে কারণে আমাদের সময় লাগছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

ডেমোক্রেটিক লীগ-ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আমাদের দলের পক্ষ থেকে নিজস্ব কর্মসূচি রয়েছে।’

এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী প্রসঙ্গে জোট শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর আজকে আমাদের জন্য একটি বিভীষিকাময় এবং প্রহসন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আমি মনে করছি। আজকে আমাদের যেখানে ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেখানে ভূলুণ্ঠিত, গণতন্ত্র আজ ধর্ষিত, হত্যা করা হয়েছে। একটি রাষ্ট্রকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে, রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান আজকে নষ্ট করেছে, সেই জায়গায় থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা, আনন্দ করা শুধু প্রহসনের নামান্তর এবং এ কারণেই বাংলাদেশ জাতীয় দল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আমরা দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করি, এটি পুরো জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি প্রসঙ্গে ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগিরই আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। আমাদের দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

এছাড়া এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচিই আমাদের জোটের কর্মসূচি।’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি