বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১



দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে জিয়া পরিবার মুক্ত বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.03.2021

বিএনপির রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটতে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার বিদেশ যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য নাটকীয় একটা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নানারকম আলাপ-আলোচনা চলছে। অবশ্য বিএনপির মধ্যেও একটি অংশ এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার পক্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যাবেন, তারেক জিয়া বিএনপির সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করবেন, বিএনপিতে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং মহাসচিব থাকবেন যারা জিয়া পরিবারের সদস্য নয়। এরকম একটি ফর্মুলার মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া হতে পারে। আর এর প্রেক্ষিতে বিএনপি`র মধ্যে খুব নীরবে নিভৃতে মেরুকরণ প্রক্রিয়া চলছে। বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। গত বছরের ২৫ শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুকম্পায় তিনি প্রথমে ৬ মাসের জামিন পান। তারপর এই জামিনের মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় দফা তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তার আবেদনে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার কথা বলেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা এখন ‘যেকোনো মূল্যে’ বেগম জিয়াকে বিদেশে নিতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং হাইকোর্ট তার মামলার একটি মামলায় দণ্ড বহাল রেখেছে, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। এরকম অবস্থায় তার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলে আইনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং এটি হবে বিচার বিভাগের ওপর এক ধরনের হস্তক্ষেপের শামিল। আর এ কারণেই সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিতে রাজি নয়। অবশ্য সরকারের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে গেলেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবেন এবং সেখান থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য উস্কানি দিতে পারেন। এরকম আশংকা করছে সরকার। আর বেগম জিয়ার পরিবার এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ এখন একটি ভিন্ন পথ গ্রহণ করছেন। তারা একটি নতুন বিএনপির অবয়ব দিতে চাইছেন, যে বিএনপিতে জিয়া পরিবারের সদস্যরা থাকবে না।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিতে রাজি হলে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিবেন এবং দলের চেয়ারপারসন পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও নেতৃত্বে থাকবেন না। আর এই এরকম একটি ফর্মুলায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া হতে পারে। তখন যে বিএনপি হবে, তা হবে জিয়া পরিবার মুক্ত বিএনপি। বিএনপির মধ্যেও একটি বড় অংশ এখন তারেক এবং খালেদা মুক্ত একটি বিএনপি সমর্থিত করতে চায়। তারা মনে করেন যে, এভাবে বিএনপি অনেক বেশি জনপ্রিয় হবে এবং তারা দলের আদর্শ বা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবেন। অন্যদিকে জিয়া পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, নেতৃত্বে যেই থাক না কেন শেষ পর্যন্ত বিএনপির চাবি জিয়া পরিবারের কাছে থাকবে। কাজেই আপাতকালীন সময় যদি অন্য কাউকে নেতৃত্ব দেওয়া যায় সেটি মন্দ নয়। নেতৃত্বে না থেকেও তারা দলের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এর ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি শুধু নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বৃদ্ধির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতে পারে এমন ধারণা করছেন অনেকে। আর সে কারণেই জিয়া পরিবারের একটি রূপকল্প দৃশ্যমান হচ্ছে এবং যার সঙ্গে জিয়া পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপির কয়েকজন নেতা যুক্ত আছেন। তারা মনে করছেন যে এরকম একটি বিএনপি জনগণের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি দিয়ে দাঁড়াতে পারবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি