মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » সংসদ নির্বাচনেও আগাম বর্জনের হুমকি বিএনপির!



সংসদ নির্বাচনেও আগাম বর্জনের হুমকি বিএনপির!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.03.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়ঙ্কর এক বিভীষিকাময় চিত্র। খুন-ধর্ষণ, দুর্নীতি, লুটতরাজ, জঙ্গিবাদ এহেন কোন কাজ নেই, যা তাদের শাসনামলে হয়নি। শুধু তাই নয়, জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়েও তারা হত্যা করেছে। খালি করেছে অসংখ্য মায়ের কোল। এ কারণে জনগণ ব্যালট-ভোটের মাধ্যমে বারবার তাদের বিগত অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিজেদের এই ভরাডুবিকে দলটির নেতারা বিভিন্ন খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছেন। দলটির নেতৃবৃন্দ এবারও ঘোষণা দিলেন ‘রাজনৈতিক ছাড়’ না পাওয়া গেলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পথেই হাঁটবে বিএনপি।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, সাংগঠনিক কর্মতৎপরতাহীনতায় মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। শুধু তাই নয়, তাদের জনসমর্থনও শূন্যের কোঠায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কোন দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে সেখানে কোন নেতাকর্মীরা আসেননা। বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যান। দু’একজন যাও আসেন, তারা ব্যস্ত থাকেন খোশগল্প আর সেলফি তোলায়। সবমিলিয়ে দলে রাজনীতি চর্চাটা আর নেই। অপরদিকে, দলে তারেক রহমানের স্বৈরাচারমূলক আধিপত্যে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা অবজ্ঞা-অবমূল্যায়নের শিকার হয়ে রাজনীতিবিমুখ হয়ে দল ত্যাগ করছেন। কারণ, পদ-কমিটি ও মনোনয়ন বাণিজ্যে ‘টাকাওয়ালা’ বহিরাগত-হাইব্রিডরাই এগিয়ে থাকছেন। থাকছেন ‘অর্থলোভী’ তারেকের সুনজরে। সবমিলিয়ে লেজেগোবরে অবস্থায় বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে। যার প্রেক্ষিতে নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় যাতে নিজেদের দিকে না আসে সে কারণে তারা ভিত্তিহীন ও লোক দেখানো সব অভিযোগ এনে দায় সরকারের উপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের উপর ভরসা কম আমাদের। কারণ বিগত অনুষ্ঠিত একটা নির্বাচনেও আমাদের পক্ষে জয় আসেনি। এ কারণে সবগুলো নির্বাচন আমরা বর্জন করেছি। এমনকি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেব কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, অংশ নিলে যদি ফল একই হয়। তাই কি করবো, আর কি করবো না তা পরিবেশ-পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই বলা যাবে।

একইসুরে কথা বললেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে যাবে না। এটাই সত্যি। তবে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে কি করবো, তা সময়ই বলে দেবে।

এই প্রতিবেদককে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকারকে বার্তা দিয়েছি যে, একতরফা ওই ধারার জাতীয় নির্বাচন হলে বিএনপি তাতে নেই।

গত ১০ বছরে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব নির্বাচনে অংশ নিলেও সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না দলটি। এমনকি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন বর্জনেরও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই বিএনপি নেতৃবৃন্দ সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ‘ধোয়া তুলসী পাতা’। কিন্তু প্রকৃত রাজনৈতিক চিত্র হলো, কোন্দল-অনৈক্য-বিভক্তিতে বিএনপি এখন জনশুন্য দলে পরিণত হয়েছে। যার ফলে নির্বাচনে বারবার ভরাডুবি হচ্ছে তাদের। আর এটাই সত্যি।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা আরও বলছেন, নির্বাচন বর্জন করা মানে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করা। এ থেকে শতভাগ প্রমাণিত হয়, ‘ডাল ম্যায় কুচ কালা হ্যায়’। সে কারণেই তারা বারবার নির্বাচন থেকে পিছু হটছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি