রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১



বিএনপিতে জেঁকে বসেছে গোষ্ঠীতন্ত্র


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.03.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির রাজনীতিতে পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র জেঁকে বসেছে। মূলত এ কারণেই বিএনপি সময় মতো সম্মেলন করতে পারছে না। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন করা হচ্ছে না। যার ফলে বিএনপি রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে এক ধরনের ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা ও গবেষণার অভাবে রাজনীতিতে আন্দোলন-কর্মসূচিতে বিমুখ বিএনপির সিনিয়র নেতারা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলের নেতারা সম্মেলন আয়োজনের ব্যর্থতার পরিচয় দেয়ায় গণতান্ত্রিক মহলে প্রায় একঘরে হয়ে গেছে বিএনপি।

দলীয় সূত্র বলছে, পরনির্ভরশীলতা, ভঙ্গুরতা এবং অপরিপক্ব রাজনীতির কারণেই আজ বিএনপির এ দশা। অনেকটা স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচিত করায় অন্যান্য নেতাদের মতামত প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। অবমূল্যায়িত হওয়ায় নেতারা আর উৎসাহিত হয়ে দলের ভালোর জন্য পরামর্শ দিতে চান না। এতে নতুন ধারণা ও চিন্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দলটি।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আব্বাস পরিবারসহ বেশ কয়েকটি পরিবার বিএনপিতে শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে। আরো বেশ কয়েকজন নেতা তাদের গোষ্ঠীর লোকদের বিএনপির বিভিন্ন পদে বসিয়ে রেখেছেন। শুধু কেন্দ্র নয়, তৃণমূলে ত্যাগী নেতারা পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্রের যাঁতাকলে পড়ে অবমূল্যায়িত হচ্ছেন।

বিএনপি ত্যাগকারী সাবেক এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি তো ব্যক্তির সংগঠন। দলটিকে রাজনৈতিক সংগঠন বললে ভুল হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সংগঠনটির মালিক। তাদের ইশারায় দলটির নেতারা উঠবস করেন। এ দলে তো গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। যার ফলে প্রতিবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন তারা। যে দল ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে যেতে পারে না, স্বতন্ত্র কোনো চিন্তার মূল্য নেই, সেই দল তো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে গণতন্ত্রের বিশ্বাস রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু করতে হবে। ব্যক্তি কেন্দ্রিক প্রভাব কমিয়ে নেতাদের চিন্তা-ভাবনাকে প্রাধান্য দিলেই বিএনপি শক্তিশালী হতে পারবে। অন্যথায় বিএনপি কখনই রাজনীতির মূলধারায় ফিরতে পারবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি