মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বিএনপিতে ‘নেতৃত্বের চাবি’ হারাচ্ছে জিয়া পরিবার!



বিএনপিতে ‘নেতৃত্বের চাবি’ হারাচ্ছে জিয়া পরিবার!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.03.2021

নিউজ ডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন প্রকাশ্য হচ্ছে বিএনপির অনৈক্য-কোন্দল আর বিভক্তির চিত্র। এমতাবস্থায় বিশিষ্টজনরা বলছেন, নয়া মেরুকরণ ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ কারণে খালেদা-তারেক উভয়কে ‘মাইনাস’ করে প্রচলন ঘটাতে হবে একটি নতুন নেতৃত্বের। যে নেতৃত্বের মাধ্যমে আসবে পরিবর্তন। থাকবে না স্বৈরতন্ত্র। সবমিলিয়ে ‘নেতৃত্বের চাবি’ চলে যাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি বিএনপি জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব বলয়ে আটকে আছে। বর্তমানে দলীয় নেত্রীর বয়স হয়েছে। তিনি বার্ধক্যে প্রবেশ করেছেন। তারেক রহমানও একাধিক মামলায় জর্জরিত। তাছাড়া সরকারের বিশেষ শর্তে কারামুক্তি পাওয়ায় সক্রিয় রাজনীতিতে আর ফিরতে পারবেন না খালেদা। তাই তার রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যাওয়াই শ্রেয়। অপরদিকে, তারেক রহমানের একগুঁয়ে দল পরিচালনায় বিরক্ত তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের অধিকাংশ নেতাকর্মী। কিন্তু বর্তমানে তিনি দলের সর্বসবা হওয়ায় তার ‘মুখের উপর’ কিছু বলতে পারেন না তারা। কিন্তু ভেতর ভেতর তারা জিয়া পরিবারের রাজনীতি থেকে মুক্তি চান।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে ‘জিয়া পরিবার’র নেতৃত্ব চান না এমন নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি তাদের মা-ছেলের দ্বন্দ্বভিত্তিক রাজনীতিতে। খালেদাপন্থীরা সহ্য করতে পারেন না তারেকপন্থীদের। আবার তারেকপন্থীরা সহ্য করতে পারেন না খালেদাপন্থীদের। আর এসবের মাঝে পড়ে বলি হচ্ছেন আমাদের মত সাধারণ নেতাকর্মীরা। যারা মূলত রাজনীতিটা করেন দলীয় আদর্শে, কারও ব্যক্তি আদর্শে নয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে

ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একইসঙ্গে নিজের ব্যক্তিস্বার্থে গড়ে তোলা তারেক সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটাতে হবে। তাকেও বিএনপির সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। শুধু তাই নয়, তাদের বদলে জিয়া পরিবারের সদস্য নয়-এমন দুই ব্যক্তিকে বিএনপির শীর্ষ পদে আসীন করতে হবে। নতুবা কোনদিনই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বিএনপি। কোনদিনই নয়।

এ ব্যাপারে জিয়া পরিবারের সদস্যরা বলছেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন আসুক কিংবা যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত বিএনপির চাবি বা নেতৃত্বের নাটাই জিয়া পরিবারের কাছেই থাকবে। তাই আপাতকালীন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের কথা মূল্যায়ণ করে যদি নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়, তাতে অভিযোগ থাকবে না তাদের। কারণ, নেতৃত্বে না থেকেও অন্তরালে বসে দলের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা। তাদের ভাষ্য, নিজেদের লাভ ছাড়া কিছুই করেনা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। দলীয় নেতৃত্বে এই যে নয়া মেরুকরণের কথা বলা হচ্ছে, এটাও যে তাদের পরিকল্পনার অংশ নয়, তার কী গ্যারান্টি! মূলত ‘যেকোনো মূল্যে’ খালেদাকে চিকিৎসার নামে বিদেশ নিতে চায় বিএনপি। কিন্তু সরকার রাজি হবেনা বিধায়, তারা এই নতুন নাটক সাজিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা করছে। বলছে, দলীয় ‘নেতৃত্বের চাবি’ জিয়া পরিবারের বাইরের কারো হাতে তুলে দেবেন। আসলেই কি তাই! নাকি নিজেদেরকে দল থেকে ‘পদত্যাগ’ দেখিয়ে সরকারবিরোধী নতুন মিশনে নামছে তারা! এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সদা-সতর্ক থাকতে হবে যাতে, কোনভাবেই বিএনপি তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে না পারে। কলুষিত করতে না পারে লাল-সবুজের পবিত্র পতাকা ও স্বাধীন ভূখণ্ডকে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি