মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » কৃষক দল নিয়ে জটিলতায় বিএনপি, তারেকের ‘চওড়া হাসি’!



কৃষক দল নিয়ে জটিলতায় বিএনপি, তারেকের ‘চওড়া হাসি’!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
15.03.2021

নিউজ ডেস্ক: এক-দু’দিন নয়, দীর্ঘ ২২ বছর পর গত ১২ মার্চ ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির অঙ্গসংগঠন কৃষক দলের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এরপর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি শুনেই ‘চওড়া হাসি’ হাসছেন লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, গত ১২ মার্চ কৃষক দলের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেন। একই সঙ্গে নেতৃত্ব নির্বাচনের দ্বিতীয় অধিবেশনের জন্য কাউন্সিলরদের গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে সারা দেশের কৃষক দলের ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার ৫ জন করে ৩৯৫ জন কাউন্সিলর আগামী দিনে সংগঠনের নেতা নির্বাচনে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেসময় লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত কাউন্সিলররা সংগঠনের আগামী দিনের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেন ‘প্রিয় নেতা’ তারেকের উপর। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তিনি আজও কমিটি ঘোষণা করেননি।

বিশিষ্টজনদের ভাষ্য, পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেছেন তারেক। কারণ, কমিটি গঠন মানেই মোটা অংকের টাকার লেনদেন। যে বেশি টাকা দেবে, সে-ই পাবে পদ-পদবী। আর যে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকা দেবেনা, সে পদবঞ্চিত হবে। এটাই হলো তারেকের সংবিধান, এটাই তার আসল রূপ। এখন তাই চলছে তারেকের দরবারে দরকষাকষি। এজন্য তিনি কমিটি ঘোষণা না করে বরং ঝুলিয়ে রেখেছেন। হাসছেন ‘চওড়া হাসি’। নতুন নেতৃত্বের জন্য কৃষকদলের নেতৃবৃন্দের তাই আরও কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে কেউই বলতে পারছেন না। ধারণা করা হচ্ছে, বরাবরের মতো ‘টাকাওয়ালা’রাই আসবেন নেতৃত্বে। দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিপরীতে নিয়ে যাবেন পেছনে।

সূত্রটি আরো জানায়, ১২ মার্চ রাতে কৃষক দলের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের অধিকাংশ আগামী কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাসান জাফির তুহিনের নাম প্রস্তাব করেছেন। তার পাশাপাশি অনেক কাউন্সিলর সভাপতি হিসেবে শামসুজ্জামান দুদুরও নাম প্রস্তাব করেছেন তারেক রহমানের কাছে। এখন তারেক রহমান অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে কৃষক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। কিন্তু সেটা কবে-কখন, তা সহসাই বলা হচ্ছেনা। কারণ, সদ্য ভেঙে দেওয়া বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ দুই নেতা শামসুজ্জামান দুদু আর সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন ইতোমধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, কৃষক দলের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিএনপির মহাসচিব হয়েছিলেন প্রয়াত তরিকুল ইসলাম ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এমনকি বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। তাই বিএনপিতে একটি মিথ চালু আছে, কৃষক দলের সভাপতি-সহসভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হলে পরবর্তীতে তিনিই হবেন বিএনপির মহাসচিব। এ কারণে বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু কৃষক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারেকের সঙ্গে এ নিয়ে কয়েক দফা অনলাইন বৈঠকও হয়েছে তার।

কিন্তু তিনি কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে সন্দিহান দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কৃষকদলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পথচলা আগামীতে কেমন হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। কারণ, গত ২৭ বছর ধরে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক থাকা শামসুজ্জামান দুদুর স্থলে হাসান জাফির তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করার ব্যাপারে কথা উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে সভাপতি পদের জন্য কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তার মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালামের নাম থাকলেও সভাপতি পদে শোনা যাচ্ছে ৯০ দশকের ডাকসুর ছাত্রনেতা ও বর্তমান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের নামও। তাই কি হবে না, বা কি হতে যাচ্ছে-তা এখন কেবল সময়ই বলে দেবে। যার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া, অদ্বিতীয় আর কোন পথ খোলা নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি