মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » কৃষক দলের সম্মেলন নিয়ে বিএনপিতে ভাঙন, ফখরুলকে ভর্ৎসনা



কৃষক দলের সম্মেলন নিয়ে বিএনপিতে ভাঙন, ফখরুলকে ভর্ৎসনা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.03.2021

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২২ বছর পর গত ১২ মার্চ ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন কৃষক দলের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এরপর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ কৃষক দলের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেন। একই সঙ্গে নেতৃত্ব নির্বাচনের দ্বিতীয় অধিবেশনের জন্য কাউন্সিলরদের গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে সারাদেশের কৃষক দলের ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার ৫ জন করে ৩৯৫ জন কাউন্সিলর আগামী দিনে সংগঠনের নেতা নির্বাচনে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসময় ফখরুলের ওপর চড়াও হয় কৃষক দলের একটি গ্রুপ।

সে সময় লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত কাউন্সিলররা সংগঠনের আগামী দিনের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেন তারেকের ওপর। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তিনি কমিটি ঘোষণা করেননি।

বিশিষ্টজনদের ভাষ্য, পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেছেন তারেক। কারণ, কমিটি গঠন মানেই মোটা অংকের টাকার লেনদেন। যিনি বেশি টাকা দেবেন, তিনিই পাবেন পদ-পদবি। আর যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যে টাকা দেবেন না, তিনি পদবঞ্চিত হবেন। এটাই হলো তারেকের সংবিধান, এটাই তার আসল রূপ। এখন তারেকের দরবারে দরকষাকষি চলছে। এজন্য তিনি কমিটি ঘোষণা না করে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, ১২ মার্চ রাতে কৃষক দলের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের অধিকাংশ আগামী কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাসান জাফির তুহিনের নাম প্রস্তাব করেছেন। তার পাশাপাশি অনেক কাউন্সিলর সভাপতি হিসেবে শামসুজ্জামান দুদুর নামও প্রস্তাব করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমান অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে কৃষক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। তবে সেটা কবে-কখন, তা সহসাই বলা হচ্ছে না। কারণ সদ্য ভেঙে দেয়া বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ দুই নেতা শামসুজ্জামান দুদু আর সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন এরই মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, কৃষক দলের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিএনপির মহাসচিব হয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এমনকি বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। তাই বিএনপিতে একটি মিথ চালু আছে, কৃষক দলের সভাপতি, সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হলে পরবর্তীতে তিনিই হবেন বিএনপির মহাসচিব।

এ কারণে বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু কৃষক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারেকের সঙ্গে এ নিয়ে কয়েক দফা অনলাইনে বৈঠকও হয়েছে তার।

তবে তিনি কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে সন্দিহান দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কৃষকদলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পথচলা আগামীতে কেমন হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি