বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিশ্লেষকদের মতামত : আগামী ১০ বছরে বিএনপির কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমবে



বিশ্লেষকদের মতামত : আগামী ১০ বছরে বিএনপির কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমবে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
18.03.2021

নিউজ ডেস্ক : ইস্যু খুঁজে না পেয়ে বিএনপি এখন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তাদের (বিএনপির) দৃষ্টি এখন কে কী পোশাক পরল, কে কত টাকার ঘড়ি পরল ইত্যাদিতে। বিএনপি রাজনীতি ভুলে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেছে, যা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের মধ্যে পড়ে না।

রাজধানীর সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন গভীর হতাশায় নিমজ্জিত উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, হতাশার কারণে বিএনপি এখন তীব্র মনঃপীড়ায় ভুগছে, রাজনীতি ভুলে ব্যবহার্য বিষয় এখন তাদের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরুদ্ধে বলার আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন।

এদিকে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে শতভাগ সমর্থন দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ধারাবাহিক ভুলের কারণে বিএনপি রাজনীতির কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়েছে। ধ্বংস ও দুর্নীতির ক্রমাগত চর্চায় বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের বিরক্তি বাড়ায় সকল পর্যায়ে প্রতিনিধি হারাচ্ছে দলটি। তারই স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটছে প্রতিটি নির্বাচনে। আগামী ১০ বছরে বিএনপির কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিএনপির অধঃপতনের জন্য বিরোধীদল নয় বরং দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দই দায়ী। ভুলের ধারাবাহিকতা এবং সমন্বয়হীনতার জন্য বিএনপি রাজনীতির কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়েছে। এদেশে রাজনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি। জনগণের প্রতি আস্থা নেই বলেই বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে অন্য পথে সরকারের পতন চায়।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি জনগণের দল নয়, সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের দল। পাকিস্তান ও দেশ বিরোধী প্রভুদের খুশি করতে রাজনীতি করায় তারা সাধারণ মানুষদের সমর্থন হারিয়ে ফেলেছে। জনবিচ্ছিন্নতার বিষয়টি উপলব্ধি করতে না পারায় এখন কিন্তু শত শত কর্মীরা দলত্যাগ করছেন। এটার জন্য কিন্তু বিরোধী দলকে দায়ী করলে বিষয়টি যৌক্তিক হবে না। অন্ধকার ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন দলটির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। আগামীতে হয়ত দলটির জনসমর্থন ৫০ শতাংশ কমেও যেতে পারে। যেভাবে বহিষ্কার ও দলত্যাগ শুরু হয়েছে তাতে বিএনপিকে নিয়ে এই শঙ্কা অমূলক নয়।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি সাময়িকভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। কিছু ভুলের কারণে আমরা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছি। তবে আমরা রাজনীতির মাঠে ফিরে আসতে চেষ্টা করছি। ভুল সবাই করে। বিধাতাও মানুষকে ক্ষমা করে দেন। সুতরাং দেশের মানুষও একদিন বিএনপিকে ক্ষমা করে দিবে এবং মানুষের সমর্থন আদায় করেই বিএনপি একদিন রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি