বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » এখানো খালেদার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে খোঁজে তার সন্তানেরা



এখানো খালেদার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে খোঁজে তার সন্তানেরা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
18.03.2021

নিউজ ডেস্ক : অপরাধ না করেও দীর্ঘ তিন বছর ধরে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে। নিজ সন্তান ও তার বাবা-মা যাতে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে তার জন্যই দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বেগম জিয়াকে সেবা ও সঙ্গ দেয়ার নামে স্বেচ্ছায় দেড় বছর কারাগারে আর বাকি দেড় বছর খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় খানিকটা অবরুদ্ধ আছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। তবে এখনো কাটেনি তার পরিবারের অভাব। বর্তমানে পরিবারে দেখা দিয়েছে তীব্র অর্থসংকট।

বেগম জিয়ার সঙ্গে কারাগারে থাকলে উচ্চ বেতন-ভাতা তার পরিবারকে দেয়ার ওয়াদা করেছিল বিএনপি। কিন্তু বিগত ৯ মাস বেতন-ভাতা পরিশোধ না করতে পারায় বিএনপির প্রতারণার রাজনীতিকে দোষারোপ করছেন ফাতেমার বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম।

ফাতেমার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারকে বিএনপির তরফ থেকে কোনরকম বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ফাতেমার বাবা মোঃ. রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) ফাতেমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে আক্ষেপের সঙ্গে এসব কথা বলেন রফিকুল। খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে কয়েকঘন্টা অপেক্ষা করেও তিনি তার মেয়ের সাথে দেখা করতে না পেরে বিমর্ষ হয়ে পড়েন।

প্রতারণার রাজনীতির কবলে পড়ে বিনাদোষে বেগম জিয়ার পাপের ভাগীদার হয়েও ফাতেমা তিলে তিলে নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে বলেও আক্ষেপ করেন রফিকুল। ফাতেমার কারণে তার পরিবার আজকে না খেয়ে মরতে বসেছে। ফাতেমার এত বড় ত্যাগ সত্বেও বিএনপির ঘৃণ্য রাজনীতির অংশ হয়ে পরিবারটির এহেন করুণ দশা দলটির সকল অর্জনকে ম্লান করে দিবে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রফিকুল ইসলাম।

রফিকুল বলেন, আমার বাড়ি ভোলা জেলার ধনেকাচা গ্রামে। এত দূর থেকে এসেও ফাতেমার সঙ্গে দেখা করতে পারলাম না। ভেবেছিলাম যেহেতু বাসায় থাকে, সাক্ষাৎ করা যাবে। কিন্তু বাসার সামনে থাকা দারোয়ানরা আমাকে ঢুকতেই দিলো না। ফাতেমা যে বেতন পায় তা দিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার মেয়ে বিএনপি নেত্রীর জন্য এত বড় বিসর্জন দিলেও বিনিময়ে পেয়েছে শুধুই প্রতারণা। কিছু দিন তার সাথে ভাল ব্যবহার করেছে, এমনকি তারা তার মোবাইলে কল করেও খোঁজ খবর নিতো বলে তিনি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।

ফাতেমা নিয়মিত বেতন পায় কিনা এমন প্রশ্নে রফিকুল এ প্রতিবেদককে বলেন, বিগত ৯ মাস তার বেতন দেয়নি বিএনপি। প্রতি মাসের শুরুতে বিএনপি কার্যালয়ে এসে প্রতিবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে আমাকে। ফাতেমার বেতন তুলতে গিয়ে আমার জুতার তলা ক্ষয় হয়ে গেছে। মির্জা ফখরুলের কাছে গেলে তিনি রিজভী সাহেবকে দিতে নির্দেশ দেন। রিজভী সাহেবের কাছে গেলে তিনি মির্জা আব্বাস নামের এক ভদ্রলোকের ঠিকানা দেন। পরে উনার বাসায় গিয়ে আমি অপমাণিত হয়েছি। নেত্রী জেলে থাকায় যেন বিএনপির নেতারাও গরীব হয়ে গেছেন।

রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে আরো বলেন, আজব দুনিয়ায় বাস করছি আমরা। ফাতেমা তার ম্যাডামের জন্য জেলে থাকছে। অথচ কথা ছিল এই কাজের জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হবে ফাতেমার পরিবারকে। প্রথম কয় মাস টাকা ঠিকঠাক পেলেও শেষ ৯ মাস একটি টাকাও দেয়নি বিএনপি। ফাতেমার সঙ্গে যারা প্রতারণা করছে তাদের পরিণাম কোনদিন ভালো হবে না। তাদের উপর আল্লাহর গজব পড়বে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি