বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » ‘নেতৃত্ব শূন্য’ বিএনপির ভবিষ্যৎ পথচলা কেমন হবে?



‘নেতৃত্ব শূন্য’ বিএনপির ভবিষ্যৎ পথচলা কেমন হবে?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.03.2021

গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে মারা গেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। শনিবার (২০ মার্চ) করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে মারা গেছেন মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেলরা। অপরদিকে, লন্ডনে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর সরকারের নির্বাহী আদেশে কারামুক্তি পাওয়ায় রাজনীতি থেকে দূরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। সবমিলিয়ে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় বিএনপি।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, মাঠের রাজনীতি কিংবা সাংগঠনিক তৎপরতা বলতে কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই বিএনপির। এর মধ্যে একাধিক নির্ভরযোগ্য নেতাকর্মীর অসুস্থতা ও মৃত্যু দলে আরেক দফা ‘নেতৃত্বের শূন্যতা’ সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি প্রায় আট হাজার মাইল দূরে বসে তারেক রহমানও দল পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপি নেত্রীর কারামুক্তিসহ কোন ইস্যুতেই রাজপথে শক্তিশালী কোন ভূমিকায় তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়োজিত করেননি। উপরন্তু নিজে মেতে ছিলেন মায়ের মুক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ে। আর সে কাজে তাকে সাহায্য করেছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও তার ‘ডান হাত’ রুহুল কবির রিজভী। দেশে থেকে তিনিই তারেকের সব অবৈধ কাজের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়ায় ‘লেজে গোবরে’ অবস্থা তারেকের।

অপরদিকে, দলের বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় তারেকের। তাই ভরসা করার মত এখন আর কেউ নাই তার। তাছাড়া তিনিও তারেকের কথা শোনেন না। চলেন নিজের মন মতন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিএনপির বর্ষীয়ান ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী মারা গেলেন।

এ নিয়ে বাংলা নিউজ ব্যাংককে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংবিধান ও আইনগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমরা পুরোপুরিভাবে মওদুদ আহমদের ওপর নির্ভর করতাম। তার মতো নেতার মৃত্যুতে বিএনপির যে ক্ষতি হলো তা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। আর তার ভূমিকা অন্য কেউ পালন করতে পারবে বলেও মনে হয় না। তাই বিএনপির ভবিষ্যৎ পথচলা কঠিন থেকে কঠিনতর হবে।

এই প্রতিবেদককে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপিতে মওদুদ আহমদের অভাব কেউ পূরণ করতে পারবেন না। অবস্থাটা এমন যে, ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় গেলে বিএনপিকে বাইরে থেকে লোক হায়ার করতে হবে। সবমিলিয়ে পথচলা সুখকর হবে না।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বিএনপি বর্তমানে তাদের অতীত কর্মের ফল ভোগ করছে। আর তাদের সঙ্গে এটাই হওয়ার ছিলো। তাই সহজেই অনুমান করা যায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি। যে পথে তাদের বর্তমান কার্যক্রম চলমান।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি