বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১



রিজভীকে মাইনাস করে দলের দপ্তরের দায়িত্বে প্রিন্স!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.03.2021

কোন্দল-বিভক্তি-অনৈক্য, এগুলো বিএনপির জন্য পুরনো কোন শব্দ নয়। বরং সমার্থক শব্দ বললেও ভুল হবে না। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি দলটির নেতৃবৃন্দ ঐতিহ্যগতভাবে এসব কিছুর চর্চা করে আসছে। পাশাপাশি মনে-প্রাণে লালন করছেন একে-অপরকে না মানার সংস্কৃতি। আবার সুযোগ পেলেই একজন আরেকজনকে হটিয়ে বসে পড়ছেন তার গদিতে। ব্যত্যয় ঘটলো না এবারও। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অসুস্থতায় সেই সুযোগটি কাজে লাগালেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি রিজভীকে মাইনাস করে দখলে নিলেন দলের দাপ্তরিক দায়িত্বের।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, বিগত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় বুধবার (১৭ মার্চ) তিনি করোনা টেস্টের জন্য স্যাম্পল দেন। সেই রিপোর্টে আসে করোনা পজিটিভ। বিষয়টি পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে নিজেই অবহিত করেন তিনি। রাতে অবস্থার আরও অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন। তবে তার শারীরিক অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। উপরন্তু তার থেমে থেমে জ্বর আসছে। পাশাপাশি ফুসফুসে সামান্য ইনফেকশনের সঙ্গে কাশিও রয়েছে এই জ্যেষ্ঠ নেতার। খাবার খেতে না পারলেও এই শরীর নিয়ে রিজভী যতটুকু পারছেন দলের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে তারেকের অনুমতি ছাড়াই সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের কাজ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২০ মার্চ) বিকেলে বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে এ ব্যাপারে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গত শুক্রবার (১৯ মার্চ) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, এটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তক্রমে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা বলছেন, এমন সিদ্ধান্তের কথা তাদের জানা নেই। তারেক রহমানও এমন কিছু বলেছেন বলে তাদের মনে হয় না। এটা ফখরুলেরই কোন চালাকি মনে হয়।

তবে রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, রিজভী তারেকের ‘ডান হাত’। তাকে কোনভাবেই দায়িত্ব থেকে তিনি অব্যাহতি দেবেন না। এটা মির্জা ফখরুলের ষড়যন্ত্র বৈ অন্যকিছু নয়। বিএনপিতে তৃতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হওয়ায় খালেদা-তারেকের অবর্তমানে তিনি মূলত দলে নিজের আলাদা একটা বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন। আর প্রিন্সকে দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া যে তারই অংশ নয়, তার কী গ্যারান্টি!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি