বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১



অবশেষে মুছেই যাচ্ছে খালেদার নাম!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.03.2021

আংশিক নয়, বিষয়টি যেন পুরোটাই সত্যিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। দল থেকে মুছে যেতে শুরু করেছে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম। ঠিক কি কারণে এমনটা হচ্ছে তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কারও মতে, আইনের প্রতিবন্ধকতা নয় বরং দলই চাচ্ছে না তাকে। আবার কেউবা বলছেন, কি করে থাকবে তার নাম, সব কিছু তো তারেক রহমানেরই দখলে। তার ইশারাতেই চলছে সবকিছু।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, সরকারের অনুকম্পায় কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে রুটিন করে তার ‘আস্থাভাজন’ নেতাকর্মীরা দেখা করছেন। তিনি সৌজন্য সাক্ষাতের নামে কৌশলে সেই নাতিদীর্ঘ আলাপনকে পরিণত করছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈঠকে। যাতে কেউ না বলতে পারেন তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়।

তবে তার এই কৌশলকে অকার্যকর মনে করছেন বিএনপির একাংশের নেতৃবৃন্দ। বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে তারা বলেন, চুরি করে কৌশলে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যতই ‘কাছের নেতাকর্মী’ নিয়ে বৈঠক করুক না কেন, কোনভাবেই তিনি আর দলের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারবেন না। কারণ দলের সর্বসবা এখন তারেক রহমান। তিনি ও তার অনুসারীরা চাচ্ছেন তাদের মতো করে দলের মধ্যে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার। এ লক্ষ্যে সবাই নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি এ কাজে তারেকের অনুসারীরা সিনিয়র নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো প্রকার পরামর্শ করছেন না। সরাসরি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, জেলা ও উপজেলা কমিটি তৈরি করছেন। স্থায়ী কমিটিরও অদৃশ্যভাবে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন তারা। কোথাও খালেদার নামগন্ধ পর্যন্ত নেই। শুধু তাই নয়, খালেদাপন্থী কোন নেতাকর্মীর কাছ থেকেও দল সম্পর্কিত নেয়া হচ্ছে না কোন পরামর্শও।

অপরদিকে বিএনপির আরেকটি অংশ বলছে, অসুস্থ হলেও খালেদাই বিএনপির ঐক্যের প্রতীক। তাই তাকে মাইনাস করা মানেই বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তিনি না থাকলে বিএনপি যে কোন মুহূর্তে ভেঙে যাবে। আর সেটা অসম্ভব কোন ঘটনা নয়। তাছাড়া তারেক রহমান রক্তের উত্তরাধিকার, সেটি ঠিক আছে। কিন্তু এর আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি এখনও অবধি খণ্ডন করতে পারেননি। তাই বিএনপিকে অখণ্ড রাখতে হলে তার উচিত হবে নিজের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে এখনই রাজনীতিতে নিয়ে আসা এবং দাদি খালেদা জিয়ার কাছ থেকে রাজনীতির পাঠ নিতে সহায়তা করা।

তাদের আরও ভাষ্য, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা তার প্রতি অবজ্ঞাসূচক ও অসৌজন্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তারেক রহমানের এমনটা করা উচিত হয়নি। কারণ, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। তার সঙ্গেও যে একই ঘটনা ঘটবে না, তার কী গ্যারান্টি!

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি আলস্য ঝেড়ে ভয়কে জয় করে যদি রাজপথে নামতে পারে, তবে হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা দেবে। কিন্তু সেটা তারেক রহমান কখনোই করবেন না। কারণ তিনি চান না, তার মা রাজনীতিতে ফিরুক। কারণ তিনি ফেরা মানেই তারেক সাম্রাজ্যের পতন। তাইতো সর্বাত্মকভাবে তারেক চাইছে খালেদার নাম মুছে ফেলতে। কাজও করছেন সেভাবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি