বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১



কাউন্সিল নিয়ে বিএনপিতে মতবিরোধ তুঙ্গে!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.03.2021

নিউজ ডেস্ক: ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও খবর নেই কাউন্সিলের। বরং কাউন্সিল নিয়ে দলে সৃষ্টি হয়েছে মতবিরোধ। যে মতবিরোধ এখন তুঙ্গে। এই অবস্থা থেকে সহজে বিএনপি বের হতে পারবে না বলেও মন্তব্য দেশের বিশিষ্টজনদের।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ দল বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা তলানিতে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ৫০২ সদস্যের ‘ঢাউস’ কমিটি নিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হচ্ছে দলটি। পাশাপাশি ভুগছে সিদ্ধান্তহীনতায়। অথচ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর কাউন্সিল করার বিধান রয়েছে।

দলের একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির বর্তমান অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তিত হবেনা, যতক্ষণ না তৃণমূলে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসছে। আর এই কাজটি করতে হলে অবশ্যই ঢাউস কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে অযোগ্য ও বিতর্কিতদের। কমিটির আকার ছোট করতে হবে। আন্দোলন সংগ্রামে পরীক্ষিত যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এ জন্য ছোট পরিসরে হলেও কাউন্সিল করতে হবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের এমন কথার জবাবে দলের একাধিক সিনিয়র নেতা বলছেন, করোনাভাইরাসের মতো প্রতিকূল পরিবেশের কারণে কাউন্সিল করা যাচ্ছে না। নেতৃবৃন্দও সায় দিচ্ছে না। বরং নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি ও মতবিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। একজন আরেকজনকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। যেটা কখনোই কাম্য নয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে দলীয় হাইকমান্ড।

এ ব্যাপারে বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, করোনার মধ্যেও যতটুকু সম্ভব ঘরোয়াভাবে কাউন্সিল করা যেতে পারে। এতে নতুন নেতৃত্ব বিকাশ লাভ করবে। আমি মনে করি, নামের পাল্লা ভারী করতে দলের ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় ঢাউস কমিটির কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া অর্ধশত উপদেষ্টারই বা দরকার কি? ঢাউস কমিটির অর্থ হচ্ছে, কিছু অযোগ্য, অথর্ব লোককে খুশি করার জন্য কমিটিতে রাখা। এতে দল উপকৃত হচ্ছে না। দল শক্তিশালী না হলে এ ধরনের কমিটির কোনো প্রয়োজন নেই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাউন্সিল নিয়ে কে কি ভাবছে বা বলছে সেটি দেখার বিষয় নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়মানুযায়ী গঠন করা হচ্ছে। সুবিধাজনক সময়ে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলও করা হবে।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কাউন্সিল নিয়ে বর্তমানে বিএনপিতে মতবিরোধ একেবারে তুঙ্গে। নেতৃবৃন্দ কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছেন না। আবার কেউ কেউ কাউন্সিল না করার পক্ষেও মত দিচ্ছেন। এতে তৃণমূলে হতাশা বিরাজ করছে। এভাবে চললে কোনভাবেই বিএনপি তার অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। উপরন্তু নিজেদের মধ্যেই বাড়বে অন্তঃদ্বন্দ্ব। যার পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি