বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্তে বিএনপি-জামায়াত



মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্তে বিএনপি-জামায়াত


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.03.2021

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে সরকারকে বিব্রত করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে একটি উগ্রবাদী ধর্মান্ধ কুচক্রী মহল। যাদের মূল এজেন্ডা হলো দেশে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, মোদির আগমনকে উপলক্ষ করে হেফাজতে ইসলাম ও সমমনা কয়েকটি ইসলামী দলকে সামনে রেখে গভীর চক্রান্তে নিমজ্জিত রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এবিষয়ে হেফাজতের আগের কমিটির নায়েবে আমির ও ঢাকা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম একাংশের আমির মুফতি ওয়াক্কাছ জানান, বিএনপি-জামায়াতের ফাঁদে আবারো পা দিয়েছে ইসলামী দলগুলো। মোদি ইস্যুতে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল হবে বিএনপি-জামায়াতের। সুনামগঞ্জের শাল্লায় যেভাবে নবগঠিত কমিটির অনুসারী হেফাজত নেতাকর্মীরা হামলা করেছে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য না। এছাড়াও হবিগঞ্জের মাধবপুরে যেভাবে হিন্দুদের মন্দিরে হামলা ও চুরির ঘটনা ঘটেছে তা সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত ছাড়া অন্য কিছু নয়।

হেফাজতে ইসলামের সাবেক এই কেন্দ্রীয় নেতা আরো বলেন, নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামী দলগুলো সারাদেশে যে দাঙ্গা ফ্যাসাদের সৃষ্টি করছে তা ইসলামের দৃষ্টিতেও সম্পূর্ণ হারাম। সকলকে এসব পরিহার করতে হবে।

তথ্যসূত্র বলছে, সম্প্রতি একটি ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৭ মার্চ) হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের উসকানিতে সুনামগঞ্জের শাল্লার একটি গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। যেখানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলার নোয়াগাও গ্রামে ৬০-৭০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, “বুধবার সকালে কাশিপুর, নাচনী, চণ্ডিপুরসহ কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কয়েক হাজার অনুসারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাও গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হাজারো মানুষের আক্রমণে গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এই সুযোগে হেফাজত নেতার অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করে তছনছ করে। লুটপাট করে বিভিন্ন বাড়িতে।”

এছাড়াও হবিগঞ্জের মাধবপুরে আদাঐর গ্রামের তিনটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাতে এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পুলিশ ও মন্দির কমিটির লোকজন জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে মন্দিরের পুরোহিত পূজা দেওয়ার জন্য মন্দিরে গেলে রাজ রাজ্যেশ্বর মন্দির, দূর্গামন্দির, শ্মশান কালীমন্দিরের দরজা ভাঙা দেখতে পান। ভেতরে গিয়ে তারা দেখেন দুর্বৃত্তরা মন্দির থেকে কাঁসার ঘণ্টা, পাঁচটি পিতলের মূর্তি ও কষ্টিপাথরের দুটি মূর্তি, দান বাক্সের নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়।

এদিকে রোববার (২১ মার্চ) রাতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পাথারিয়া কান্দাগাঁওয়ে একটি শ্মশানঘাট নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য আজিজুল হকের বিরুদ্ধে। এ হামলায় চারজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের ভাই বিএনপি নেতা আসাদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ের এসব ঘটনা প্রসঙ্গে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে আবারও ধর্মব্যবসায়ীদের মাঠে নামিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রী মহল। দেশের বিদ্যমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতেই মোদি ইস্যুকে কাজে লাগাতে চাইছে তারা।

বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে একটি গোষ্ঠীর বিরোধিতা প্রসঙ্গে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, রাজনৈতিকভাবে যারা ব্যর্থ হয়, তারাই যুগ যুগ ধরে ধর্মব্যবসায়ীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। এবারও তাই করছে। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা জনগণের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি