মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১



৫ কারণেই বিএনপির আজকের এই অবস্থা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.03.2021

সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। নেই মিছিল-সভা-সমাবেশ। বাধ্য হয়ে তাই বিএনপি নেতৃবৃন্দ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ব্যবসা-বাণিজ্যে। আবার কেউবা ঘুমিয়েই পার করছেন সময়। কিন্তু নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য ন্যূনতম পরিশ্রমটুকুও করছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, এখনই সচেতন না হলে অচিরেই রাজনৈতিক দল হিসেবে বিলুপ্ত হবে বিএনপি। তখন অভিযোগ ও নালিশ করার অধিকারটুকুও থাকবে না। তাই সময় থাকতে নিজেদের ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে ৫টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেতৃত্বহীন অবস্থায় পথ চলে বিএনপি আজ এক গন্তব্যহীন রাজনৈতিক দল। নানা রকম সংকট-জটিলতায় বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত অবস্থা তাদের। অথচ কোনক্রমেই এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল সুষ্ঠুভাবে সব কিছু চলবে। কিন্তু তা আর হল কই? নিজেদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল-অনৈক্য-বিভক্তির রেষারেষিতে আজ তারাও এখানে পৌঁছেছে।

এর পেছনে মূলত ৫টি কারণকে দায়ী করছেন দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা। প্রথমত, দলে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি সরকারের মহানুভবতায় জামিনে আছেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ শর্তে জামিন হওয়ায় তিনি রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যাপারে তিনি দলকে কোন প্রকার পরামর্শ কিংবা মতামতও দিচ্ছেন না। অপরদিকে, ফেরারি আসামি হয়ে লন্ডনে পলাতক জীবন যাপন করছেন বিএনপির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি থেকেও না থাকার মতো করে কার্যত দল থেকে বিচ্ছিন্ন। একটি বিশেষ শ্রেণি ছাড়া দ্বিতীয় কারো সঙ্গেই তার যোগাযোগ নেই। আর তাদের সঙ্গে তিনি তখনই যোগাযোগ করেন, যখন পদ-কমিটি-মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে কথা ওঠে। মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের স্বার্থ থাকে।

দ্বিতীয়ত, অসুস্থতা। দলের গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের একটি বৃহৎ অংশ এখন করোনাসহ নানা অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন। কেউবা হাসপাতালে, আবার কেউবা নিজগৃহে। তাই দলকে সুশৃঙ্খলভাবে নেতৃত্ব দিতে এখন তেমন কেউ নেই। এই অবস্থার মধ্যে চিকিৎসাধীন কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে মারাও গিয়েছেন। সবমিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছে দলটি।

তৃতীয় কারণটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিটিহীন তৃণমূল। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ ভাগ জেলায় বিএনপির কার্যকর কোন কমিটি নেই। যেগুলো আছে, তা সব মেয়াদ উত্তীর্ণ অথবা অকার্যকর। কমিটিহীন থাকার কারণে দলটি স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য হারাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোরও একই অবস্থা। থেকেও না থাকার মত। তাই মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন সংগঠিত করা কিংবা নির্বাচন পরিচালনা করার মতো অবস্থা নেই বিএনপির। যে কারণে বিগত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে তাদের শোচনীয় বিপর্যয় ঘটেছে। ধারাবাহিক এই পরাজয় কর্মীদের দুর্বল মনোবলকে আরও দুর্বল করে দিয়ে সাংগঠনিক তৎপরতাকে গতিহীন করে দিয়েছে।

চতুর্থত, নিজেদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া। বিএনপি নেতৃবৃন্দ অনেক আগেই নিজেদের আদর্শগত জায়গা থেকে ছিটকে পড়েছে। সাম্প্রতিককালে বিষয়টি ব্যাপকহারে দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতা করা ছাড়া তাদের দ্বিতীয় কোন কাজ নেই। উপরন্তু ৭ মার্চ উদযাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের পরিবর্তিত অবস্থান নেতাকর্মীদেরকে বিভ্রান্ত ও হতাশ করেছে। যার ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে উগ্র-মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এতে মৃতপ্রায় রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে বিএনপি।

সর্বশেষ কারণটি হলো দলীয় নেতৃবৃন্দের উগ্র ও গন্তব্যহীন পথচলা। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-গন্তব্য থাকলেও আদতে বিএনপির সেটি নেই বলেই দলটির নেতৃবৃন্দের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে। কারণ, তাদের উশৃঙ্খল কার্যপরিধি ও চলাফেরাই প্রমাণ করছে-নেতাকর্মীরা জানেন না কোথায় গিয়ে তারা থামবেন! কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, সর্বত্রই এই চিত্র বিদ্যমান।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, সমাপনী ঘণ্টা বেজে গেছে। রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ গল্পের ফটিক চরিত্রের মতো বিএনপিরও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এসে গেছে। অচিরেই তারা নিজেদের ভুলের চূড়ান্ত শাস্তি প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাদের গন্তব্যহীন ও অগোছালো পথচলা, সে বার্তাই শোনাচ্ছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি