বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » হঠাৎ হেফাজতের সংবাদ সম্মেলন, কিসের আলামত?



হঠাৎ হেফাজতের সংবাদ সম্মেলন, কিসের আলামত?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.03.2021

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবরটি শোনার পর থেকেই তার বাংলাদেশ যাত্রা নিয়ে জলঘোলা শুরু করেছে হেফাজত। শুধু তাই নয়, ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের অর্থায়নে তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির কাজ করছে বলেও জানা গেছে। আর এই আলামতকে অশুভ বলে মন্তব্য, দেশের বিশিষ্টজনদের।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে সরকার। যা ১৭ থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সীমার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ২৬ ও ২৭ মার্চ দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। তাদেরকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু মোদির বাংলাদেশ যাত্রা নিয়ে একটি উগ্রবাদী ধর্মান্ধ কুচক্রী মহলের শুরু হয়েছে গাত্রদাহ। তারা সরকারকে বিব্রত করতে একের পর এক অব্যাহত রেখেছে ষড়যন্ত্র। যাদের মূল এজেন্ডা হলো দেশে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। আর এ কাজে ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের ‘দাবার গুটি’ হয়ে কাজ করছে হেফাজত।

মোদির সফরের আগে ভারত সরকার যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভারতের গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন বার্তা দিলো। তখনই যেন ষড়যন্ত্রের আরেকটি অধ্যায় রচনা করলো হেফাজত। সোমবার (২২ মার্চ) রাজধানীতে মোদির সফরকে কেন্দ্র করে তারা এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে মোদির আমন্ত্রণ বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করবেন। কিন্তু সেটা কোনো ধরনের সহিংসতা বা কর্মসূচি ঘোষণা না করেই।

হেফাজতের এই কথাকে কৌশল হিসেবে দেখছেন দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, শুরু থেকেই হেফাজত এবং মৌলবাদীরা মিলে মোদির সফরের বিরোধিতা করছে। চাইছে যেকোনো ভাবে দেশের রাজনৈতিক মহলকে উত্তপ্ত করে তুলতে। সে লক্ষ্যে তারা শুক্রবার (১৯ মার্চ) নরেন্দ্র মোদির আগমন ঠেকাতে রাজধানীতে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় হেফাজত সোমবার (২২ মার্চ) আবার আয়োজন করে সংবাদ সম্মেলনের।

সংবাদ সম্মেলনে তারা কোনো কর্মসূচি দেবে না বলে ঘোষণা দিলেও এর নেপথ্যে রয়েছে আলাদা কোন গল্প। কারণ, মোদির সফরের দিনে কোনো ধরনের কর্মসূচি কিংবা জনসমাগম বা বিক্ষোভ না করার কথা বলে তারা কেবল নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। কিন্তু অন্যভাবে ইন্ধন দেবেন না, বা অনলাইনে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে অপপ্রচার চালাবেন না, তার কি গ্যারান্টি! এ ব্যাপারে তাই সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনভাবেই নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে না পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি