মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মুসল্লিদের উসকে দিচ্ছে কুচক্রী মহল



গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মুসল্লিদের উসকে দিচ্ছে কুচক্রী মহল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.03.2021

নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করেছে হেফাজত ও উগ্রপন্থী একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে হেফাজত ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। আকস্মিক তারা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দখল করে মসজিদের ভেতরে স্লোগান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা শুরু করে। এতে মসজিদের পবিত্রতাও লঙ্ঘন হয়। এসময় পুলিশ ধৈর্য্যের সাথে হেফাজত কর্মীদের বারংবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে বের হবার অনুরোধ করলেও তারা তা না শুনে মসজিদের ভেতরই অবস্থান করেন। আর এঘটনাকে পুঁজি করে জামায়াত-শিবির ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের আটকে রেখে হত্যা করা হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে দেয়। যা কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রীক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও দেশের বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আগত সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়। যে গুজবের প্রতিক্রিয়ায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে থানা ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা।

সূত্র বলছে, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে একটি সাম্প্রদায়িক কুচক্রী মহল বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের হত্যা করা হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে গোটা দেশের কওমী অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো পরিবেশ তৈরি করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। এই গুজবের ওপর ভিত্তি করেই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা ঘেরাও করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ৫ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। অথচ সেই আহত শিক্ষার্থীদেরও নিহত বলে গুজব রটাচ্ছে এই উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।

জানা যায়, ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মোদিবিরোধী মিছিলে পুলিশের ওপর হামলা করে জোরপূর্বক মসজিদে অবস্থান শুরু করে হেফাজত, জামায়াত-শিবিরের উগ্রপন্থী একদল নেতাকর্মী। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় যে, তাদেরকে মসজিদে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একযোগে হামলা করে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। আর এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে হাটহাজারী মডেল থানা ঘেরাও-সহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালায়। এই সংঘর্ষের জেরে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এবিষয়ে দারুল উলুম আল-হোসাইনিয়া ওলামা মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম আদিব বলেন, দেশের সর্বজনতার নিয়মতান্ত্রিক কিছু দাবিকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে উগ্রতা ছড়াচ্ছে। বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের হত্যা করা হচ্ছে এমন গুজব যারা ছড়াচ্ছে তারা ইসলামের শত্রু, তারা দেশের শত্রু। এর সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নূন্যতম সম্পর্ক নেই। মূলত জামায়াত-শিবির ও হেফাজতের উগ্রপন্থী নেতাকর্মীরাই এসব গুজব ছড়াচ্ছে। তাই দেশবাসীর প্রতি আমি আহ্বান জানাবো যেন তারা এই কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা না দেয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই দিনে যারা এমন গুজব ছড়াচ্ছে তারা দেশদ্রোহী ছাড়া আর কিছু নয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। মুসলিম ও মুসলমানদের পবিত্র জায়গা হচ্ছে মসজিদ। পুলিশ মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে ভেতর প্রবেশ করেনি। আমরা ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি।’

উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘একদল মুসল্লি মসজিদের ভেতর থেকে স্লোগান দিচ্ছিল, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জুতা, ঝাড়ু দেখাচ্ছিল। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছিল আরেকদল মুসল্লি। তারপর থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। যারা জুতা দেখিয়েছে তারা মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেয়। আর যারা তাদের এগুলোর বিরোধিতা করছিল, তারা তাদের হাতে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার বিভিন্ন যায়গায় অবস্থান নিয়েছে। আমরা বলেছিলাম আপনারা যারা মসিজেদের ভেতরে আছেন তারা বের হয়ে যান। তখন অনেকে আমাদের কথা শুনেছেন। আর যারা অতিউৎসাহী তারা এখনও অবস্থান করছেন।’

সূত্র বলছে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসিজেদের ভেতরে অবস্থান করা এই উগ্রবাদী গোষ্ঠীটিই মূলত সারাদেশে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রতিক্রিয়ায় হাটহাজারী মডেল থানা ঘেরাও-সহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালিয়েছে হেফাজতের উগ্র কর্মীরা।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মছিউদ্দৌল্লাহ রেজা বলেন, “হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বিনা উস্কানিতে হেফাজত কর্মীরা থানায় হামলা চালায়। তারা থানা কম্পাউন্ডে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।”

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, “হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ডাক বাংলোতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। পাশাপাশি তারা ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগও করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের হেফাজতের কর্মীরা ভূমি অফিসে প্রবেশে বাধা দেয়।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে দেশের কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ হয়। নারী নীতি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশে ২০১৩ সালে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে দেশে ব্যাপক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে অবস্থান করে ব্যাপক অরাজকতা চালায় সংগঠনটি। এই সংগঠনটি মূলত হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম থেকে পরিচালিত হয়। মূলত হেফাজতের আড়ালে জামায়াত-শিবির ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা করছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি