বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » মোদির সাক্ষাৎ না পেয়েই কি হেফাজতের ব্যানারে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা বিএনপি-জামায়াতের?



মোদির সাক্ষাৎ না পেয়েই কি হেফাজতের ব্যানারে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা বিএনপি-জামায়াতের?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.03.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশবাসী যখন আনন্দচিত্তে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে, বিদেশী সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করছেন ঠিক সেই সময় হঠাৎ করেই বিশৃঙ্খলা-অগ্নিসন্ত্রাসে মেতে উঠেছে একটি চিহ্নিত মহল। হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ, সাধারণ মানুষের ওপর চালাচ্ছে নৃশংস হামলা। কিন্তু কেন এই হামলা-অগ্নিসংযোগ? বলা হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে সাধারণ মুসুল্লিরা বিক্ষোভ করছেন। কিন্তু ঘটনা কি তাই? না এর পেছনে অন্য কোন খেলা আছে?

এবারই প্রথম নয়, ২০১৫ সালেও বাংলাদেশ সফর করে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ খালেদা জিয়া এবং বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। তখন বিএনপির প্রতিনিধিদলের সাথে ৪০ মিনিট দীর্ঘ কথা হয় নরেন্দ্র মোদির। ওই সফরে তিনি সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের সাথেও বৈঠক করেন। সেসময় কিন্তু হেফাজতে ইসলাম মোদির বিরোধিতা করেনি। তাহলে এবার মোদির বিরোধিতার নাম করে দেশজুড়ে তাণ্ডবের কারণ কী?

বিক্ষোভের সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে, বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মুখে ভারত বিরোধিতার কথা বললেও নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ চেয়ে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করে বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটি। কিন্তু সেখান থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খাটার কারণে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখা করবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ বিষয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শাল্লায় হিন্দু পল্লীতে হেফাজতের আক্রমণের কারণে হয়ত বিএনপির চেয়ারপারসনের সাথে দেখা করেননি নরেন্দ্র মোদি। যেহেতু হেফাজতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক ভালো। তবে আমরা সামনে তার সাথে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

দফায় সংঘর্ষে বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

জানা গেছে, এই অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে নরেন্দ্র মোদির সফরকে বিতর্কিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি-জামায়াত। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক করোনার অজুহাতে বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি ৩০ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে। এরপর হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের মোদির বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে অনলাইনে অপপ্রচার চালায়। এরপর শুক্রবার দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা সাধারণ মুসুল্লি বেশে নামাজে অংশ নেয়। নামাজ শেষ হতেই বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর হামলা করে। এরপর পুলিশ আত্মরক্ষা করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ফেসবুক ব্যবহার করে ঢাকার বায়তুল মোকাররমে মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলার মিথ্যা প্রচারণা চালায় বিএনপি-জামায়াত। একাজে বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেয়। যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে সাঈদীর ছেলে জামায়াত নেতা মাসুদ সাঈদী ফেসবুকের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মুসুল্লিদের উস্কে দেন। এভাবে সারাদেশের মসজিদ-মাদ্রাসায় মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তারা।

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ও হাটহাজারীতে মাদ্রাসার ছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অগ্নিসংযোগ। আজ শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে

এদিকে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাক্ষণবাড়িয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় নারকীয় কায়দায় হামলা চালিয়ে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে, সাধারণ মানুষ এবং পুলিশের ওপর হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা। বিএনপির জোটসঙ্গী দলের এক নেতা জানান, মোদির সফরকে কেন্দ্র করে জনগণকে উস্কে দিয়ে সরকারকে বেকায়কায় ফেলার একটা সুযোগ এটা। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই সরকারের পতন ঘটবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা। একাজে তারা সিদ্ধহস্ত। কিন্তু সাধারণ মানুষ অত বোকা না, তারা স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের পাতা ফাঁদে পা দিবে না। মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সরকার পতনের অপচেষ্টা দেশপ্রেমিক জনগণ রুখে দাঁড়াবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি