বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » মোদি বিরোধী আন্দোলন: ফ্রন্টলাইনে হেফাজত, নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াত



মোদি বিরোধী আন্দোলন: ফ্রন্টলাইনে হেফাজত, নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াত


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.03.2021

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২৬ মার্চ দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসেছেন বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরসূচি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপি চক্রের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারা মোদির সফরকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের অর্থায়নে হেফাজত ইসলামের লেবাসে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর গংদের সহায়তায় দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে তাদের সেই সহিংসতায় কয়েকজনার প্রাণও গেছে। কিন্তু তাতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীটি। বরং নতুন নতুন সহিংস কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের পাঁয়তারা করছেন।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসছেন, এমন খবর শুনে প্রথম থেকেই তার বিরোধিতা করছে জামায়াত। লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাস মোদি বিরোধী এই আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে অর্থায়ন করে। ‘পেইড এজেন্ট’ হয়ে তাদের হয়ে কাজ শুরু করে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর গং। অন্তরালে পরোক্ষভাবে তাদের মদদ যুগিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে হেফাজতের পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে কোনো ধরনের সহিংস কর্মসূচিতে যাওয়া হবে না বলা হলেও তা করেনি তারা। বরং বিএনপি-জামায়াতের ছায়াতলে ২৬ মার্চ রাজধানীসহ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তারা তাণ্ডব চালিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এই সহিংস হামলায়।

মোদির আগমনের খবর শুনে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীটি প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলেও, হঠাৎ তা কেন সহিংসতায় রূপ নিলো তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তাদের ভাষ্য, নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা এঁকেছে দেশবিরোধী কুচক্রী মহল। এতে হেফাজতসহ কয়েকটি গোষ্ঠীর যৌথ সমন্বয় রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত আগে থেকেই ভারত বিরোধী। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে যেহেতু বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবে না, সেহেতু তারাও এর পেছনে মদদ যুগিয়েছে। একইসঙ্গে আল্লামা শফির মৃত্যুর পর হেফাজত তাদের আদর্শ থেকে দূরে সরে ক্ষমতার দিকে ঝুঁকছে। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে মৌলবাদী এবং যুদ্ধাপরাধী এজেন্টগুলো। তারা দেশের বাইরে থেকে অর্থ ও মদদ দিচ্ছে। সবমিলিয়েই এই ষড়যন্ত্রের অবতারণা।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা আরও বলছেন, হেফাজতকে ফ্রন্টলাইনে রেখে নেপথ্যে থেকে বিএনপি-জামায়াত সাধারণ বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে। হেফাজত-নুরের মতো ‘পেইড এজেন্ট’ গুলো এ কাজে তাদের সহায়তা করেছে। ছিলো শিবিরেরও বড় অংশগ্রহণ। আর লন্ডনে বসে এসব কিছুর কলকাঠি নাড়ছেন তারেক রহমান। তিনি পাকিস্তান দূতাবাস ও জামায়াতের যৌথ অর্থায়নে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছেন। যা তিনি কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারবেন না। কারণ, তার রাগ মোদি বাংলাদেশ সফরে বিএনপিকে সময় দেয়নি। পাশাপাশি শোনেনি তাদের আর্জি। তাই রাগ-ক্ষোভের সেই জায়গা থেকে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে তিনি এই সহিংসতার পেছনে নেপথ্য খলনায়ক হয়ে ভূমিকা রেখেছেন। নিয়েছেন মানুষের প্রাণও।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি