বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » আবারও ভারত বিরোধী অবস্থানে বিএনপি, নেপথ্য কারণ কী?



আবারও ভারত বিরোধী অবস্থানে বিএনপি, নেপথ্য কারণ কী?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.03.2021

প্রার্থনার মতো করে বিএনপির মনে-প্রাণে একটাই চাওয়া ছিল। কোনোভাবেই যেন বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে না আসে। কিন্তু তা আর হল কই? দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬ মার্চ ঠিকই মোদি এলেন। অনুষ্ঠানে যোগও দিলেন। এই ব্যর্থতায় বিএনপি নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের বিরুদ্ধে নানারকম কথাবার্তা বলছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্ক নিয়েও তিক্ততা ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, বিএনপি তার অবস্থানগত পরিবর্তন এনে আবারও ভারত বিরোধী অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাশাপাশি ভারতকে আগ্রাসী একটি আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র হিসেবেও চিহ্নিত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তার রাজনৈতিক কৌশল ছিল ভারত বিরোধী রাজনীতিকে চাঙ্গা করে আওয়ামী লীগকে পর্যুদস্ত করা। সে পথেই বিএনপি রাজনীতি করেছিল এবং সে ধারা ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। কিন্তু পরিবর্তনটা এলো ৯৬-এর পর। তারেক রহমানের নেতৃত্বে শীর্ষ বিএনপি নেতৃবৃন্দের একটি দল ভারত সফর করে এবং সেই সফরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মুচলেকাও দেয়। যার প্রেক্ষিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয় তারা। আর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই রূপ বদলে যায় বিএনপির।

এরপর প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ভারতের তোষণ করলেও গোপনে তারা মেতে ওঠে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে ভারতকে অশান্ত করে তুলতে পাকিস্তানি কৌশল অবলম্বন করে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনার মধ্যে দিয়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর আবারও নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় বিএনপি। নতুন করে তাদের মধ্যে শুরু হয় ভারত তোষণের প্রতিযোগিতা। কিভাবে তাদের সন্তুষ্ট করবে তার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে তৈরি করা হয় বিশাল এক কৌশলপত্র। কিন্তু কোনকিছুতেই কোন কাজ হয় না।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির একটি দল ভারত সফর করে। চেষ্টা করে পুনরায় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দেনদরবারের। ভারত সে সময় বিএনপির কথায় প্রভাবিত না হয়ে বরং কয়েকটি সুস্পষ্ট শর্ত দিয়েছিল। যার মধ্যে ছিল তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরে যেতে হবে, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে, দলের ভেতর যারা মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী আছে তাদের বাদ দিতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসবের কোন কিছুই করেনি বিএনপি। উপরন্তু, নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের দল ও বিতর্কিত জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে বিএনপি তার আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করে। মূলত তারপর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে বিএনপির। যা এখনও অব্যাহত।

এ কারণে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মোদির বাংলাদেশ সফরের আগে আবারও নড়েচড়ে বসে বিএনপি। নতুন করে নিজেদের পুরনো রূপ দেখল। ভারত বিরোধিতার মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছে আবারও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাইলো। চাইলো ভারত বিরোধী যে রাজনৈতিক শক্তি, সেই রাজনৈতিক শক্তির নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে। তাদের সেই চাওয়ার কাছে সহিংসতার মাধ্যমে ঝরে গেলো ৫টি প্রাণ। যা তারা কখনই ফেরত দিতে পারবে না।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবক্ষেকরা বলছেন, বিএনপি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্ধ-উন্মাদ হয়ে যায়। সে সময় সারি সারি লাশের স্তূপও তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়। ২৬ মার্চের ঝরে যাওয়া ৫টি প্রাণও তাদের কাছে তেমনই মনে হয়েছে। সে কারণেই তারা ভারতের বিরোধিতা করা থামায়নি। বরং নেপথ্যে থেকে উসকানি দিয়ে, অর্থায়ন করে আন্দোলনকে চাঙ্গার মাধ্যমে রাজনৈতিক মনোবাসনা পূরণের পাঁয়তারা করছে। এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে না পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি