বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » মোদি ইস্যুকে কাজে লাগাতে না পারায় বহিষ্কার হচ্ছেন মির্জা ফখরুল



মোদি ইস্যুকে কাজে লাগাতে না পারায় বহিষ্কার হচ্ছেন মির্জা ফখরুল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.03.2021

নিউজ ডেস্ক: প্রতিবার বাংলাদেশে কোনো ইস্যু তৈরি হলেই সেই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। যার ধারাবাহিকতায় আল জাজিরার মিথ্যা ভিডিও নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টায় ব্যর্থ হবার পর এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের ইস্যুকে ব্যবহার করতেও ব্যর্থ হলো বিএনপি। জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদি আসার প্রথম দিকে বিএনপি আন্দোলন করতে চায়, তবে শেষের দিকে হেফাজতের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনে জড়ায় তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মিছিল ছিলো ২০-২৫ জন কর্মী নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২০ জন নিয়ে মিছিল হয় না। বলতে কষ্ট হলেও সত্যি যে বিএনপির রাজনীতি পাড়ার দোকানে ছেলেরা আড্ডা মারার মতো হয়ে গেছে। এর চেয়ে দুঃখের বিষয়, বিএনপির সকল কার্যক্রম পল্টন থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় ও প্রেসক্লাবেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমার মনে হয় এর জন্য আমার মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও অনেকাংশে দায়ী, তিনি আন্দোলন করতে চান না দেখেই রুহুল কবির রিজভী বাধ্য হয়ে ২০-২৫ নিয়ে আন্দোলন করে।

তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে আর্থিক দৈন্যদশা দেখা দেয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে স্থবিরতা স্পষ্ট হয়েছে। মূলত অর্থের অভাবে থমকে গেছে দলের রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচি। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপি এলিটদের রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিতি পেলেও বিরোধী দলে পদার্পণ করার পর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যদশা স্পষ্ট হয়েছে।

তবে রিজভীর এমন মুভমেন্টে খুশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও তৃণমূল বিএনপি নেতারা। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মতের অমিল, জামায়াতের নীরবতা এবং নমিনেশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে মির্জা ফখরুলপন্থী নেতাদের আর বিশ্বাস করতে পারছে না তৃণমূল বিএনপির নেতারা। যার ধারাবাহিকতায় এবার মোদি ইস্যুতে বিএনপির চুপ থাকাকে কেন্দ্র করে মির্জা ফখরুলপন্থী নেতাদের সরিয়ে দিয়ে তৃণমূল বিএনপির অংশগ্রহণে দলটি রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে নতুন রূপে যাত্রা শুরু করতে পারে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের প্রশ্নে দলের নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। সিনিয়র নেতাদের সমর্থনে ফখরুল-আমির খসরু ও তারেক-রিজভীর সমর্থনে আরেকটি পক্ষের বিভাজন ছিল ওপেন সিক্রেটের মতো। সে কারণেই একই ইস্যু নিয়ে প্রায়শই মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদকে আলাদা আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করছিলেন। বিগত দুই বছরে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে মির্জা ফখরুলকে কোনো প্রকারের আন্দোলন করতে দেখা যায়নি। যার কারণে অনেক নেতাই মির্জা ফখরুলকে সরকারের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছিলো। এমন সংবাদ তারেক রহমানের কানে পৌঁছালে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেন মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেবেন। আর এই কারণেই পদত্যাগ করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি