বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » স্থানীয় নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে হেফাজতের কাঁধে বসে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য



স্থানীয় নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে হেফাজতের কাঁধে বসে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.03.2021

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক নির্বাচনে হেরে এবং জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে আবারও রাজপথে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট। তবে এবার তারা সওয়ার হয়েছে হেফাজতে ইসলামের কাঁধে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ইস্যু করে হেফাজতের সাথে দেশব্যাপী নারকীয় তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত।

জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পৌরসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয় বিএনপি-জামায়াত জোটের। সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-দুর্নীতিবাজ নেতাদের কারণে জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটকে প্রত্যাখান করে। ভোটের মধ্যমে জনগণের মধ্যে সাড়া না পেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান মোদি ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তারেকের নির্দেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা হেফাজতের সাথে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপি সরাসরি মোদিবিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করবে না, কেননা তাতে ভারতের কাছে নালিশ করার সুযোগ নষ্ট হবে। তাই হেফাজতকে কর্মসূচি ঘোষণার দায়িত্ব দেয় বিএনপি-জামায়াত। এরপর হেফাজতের কর্মসূচিতে নেমে সহিংসতা চালাবে ছাত্রদল-শিবিরের কর্মীরা।

সূত্র জানায়, সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারা দেশে ধর্মীয় উসকানি দিয়ে হেফাজত মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঠে নামায়। এরপর তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা দেশজুড়ে তাণ্ডব শুরু করে। ঢাকার বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, পুলিশের ওপর হামলা চালায় তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের অফিস, নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করে। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে কেউ কখনও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে হামলা চালায়নি। জেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদরা জানান, এরকম সহিংস কর্মকাণ্ড হেফাজতের মত ধর্মভিত্তিক দলের দ্বারা সম্ভব না। এরকম পরিকল্পিত হামলা বিএনপি- জামায়াতের ক্যাডাররা ছাড়া অন্য কারও পক্ষে অসম্ভব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নমিনেশন দেওয়া, নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন না করায় দলের ভরাডুবি হয়েছে। তাই বলে হেফাজতের সাথে সহিংসতা শুরু করা ঠিক হয়নি। এমনিতেই জামায়াতের সাথে জোটের কারণে ভারতের আনুকূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এখন যদি হেফাজতকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের নামে এরকম তাণ্ডব চালানো হয় তাহলে ভারতের কাছে গিয়ে নালিশ করার সব পথ বিএনপির জন্য রুদ্ধ হয়ে যাবে। আর ভারতের আনুকূল্য ছাড়া বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসা দুরূহ ব্যাপার। তারেক রহমান যদি এসব না বোঝেন তাহলে বিএনপির সামনে আরও খারাপ সময় আসবে। আমাদের উচিত, সহিংসতার পথে না গিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণের পক্ষে কাজ করলে ভোটের মাধ্যমেই আমরা ক্ষমতায় আসতে পারব।

এদিকে হেফাজতকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামায়ের নৈরাজ্য সৃষ্টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, এর আগেও ২০১৩ সালের হেফাজতের ওপর ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিল স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। দলটি যখনই আন্দোলনে ব্যর্থ হয় তখনই সাম্প্রদায়িক শক্তির কাঁধে ভর করে সহিংসতার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক জনগণ এসব মৌলবাদী কর্মকাণ্ড কখনই পছন্দ করে না। তাই হেফাজতের কাঁধে সওয়ার হয়ে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি