বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » তাণ্ডবে দুঃখপ্রকাশ: পদত্যাগ করলেন হেফাজতের আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল



তাণ্ডবে দুঃখপ্রকাশ: পদত্যাগ করলেন হেফাজতের আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.03.2021

নিউজ ডেস্ক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আমির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল। হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের একদিন পর সোমবার (২৯ মার্চ) রাতে শবে বরাতের রাতে বয়ান করার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে চাইলে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, একটি অরাজনৈতিক সংগঠন বলে বিবেচনা করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু দিনে দিনে এটি একটি রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নেয়ায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হলাম।

আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সূচনা করে। কয়েক বছর থেকে এটি তার লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। হেফাজতে থাকা সেই চক্রটি আমার কোনো আদেশ অনুরোধ মানতে চায় না। যার ফলে আমি শতবার বারণ করার পরেও ২৮ মার্চ আমার হুকুম অমান্য করে তারা মিছিলে অংশ নেয়, সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয়। মানুষ এতো সহিংস কেন হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এমন লক্ষ্য নিয়ে হেফাজতে ইসলাম তৈরি হয়নি।’

আব্দুল আউয়ালকে আরও বলেন, ‘মায়ের বুক খালি করে, ছোট ছোট শিশুদের দিয়েও একটি পক্ষ আন্দোলন করাচ্ছে। অথচ বিষয়টি হেফাজতে ইসলামের নীতি পরিপন্থী। আর এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। এখন আমার একটাই রাস্তা। আমি আমার জিম্মাদারি ছেড়ে দিলাম। আমি হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বে আর থাকবো না। আমার আমির পদ দরকার নাই। আমার পক্ষ থেকে আর কোনোদিন ঘোষণা আসবে না। তোমরা যারা অতি উৎসাহীওয়ালা আছো, তোমরা বাবা হেফাজত ইসলাম করো। আমার বয়স হয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, কথা বলতে পারি না। তাই আমি মুসল্লিদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি হেফাজতের আমিরের পদে থাকবো না।’

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৮ মার্চ) হেফাজতের ডাকা হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে কাচঁপুর সেতু পর্যন্ত এলাকায় ছয়টি কাভার্ড ভ্যান, আটটি ট্রাক, একটি প্রাইভেট কারসহ মোট ১৭টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে গণমাধ্যমের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ শতাধিক যানবাহন। কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ক্যামেরা। পুলিশ হেফাজত সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে দেড় শতাধিক টিয়ারশেল এবং চার হাজার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে দুই জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত মানুষ আহত হন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি