বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » মাওলানা আব্দুল আউয়ালের স্বীকারোক্তি: হেফাজতের সহিংসতা পরিকল্পিত!



মাওলানা আব্দুল আউয়ালের স্বীকারোক্তি: হেফাজতের সহিংসতা পরিকল্পিত!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.03.2021

নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলাম দেশব্যাপী যে তাণ্ডব চালিয়েছে সেটি যে পূর্ব-পরিকল্পিত তার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল। সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি মসজিদে শবে বরাত উপলক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, হরতাল কর্মসূচিতে প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোয় সংগঠনের কয়েকজন নেতার কাছে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি। এর প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের সব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

এদিকে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের পদত্যাগের ঘোষণায় প্রশ্ন উঠেছে, সহিংসতায় না জড়ানোয় কারা তাকে হেনস্তা করেছেন? হেফাজতের অভ্যন্তরে কারা সেই নেতা, যাদের ইশারায় দেশজুড়ে নারকীয় এসব তাণ্ডব পরিচালিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার সময় নাস্তিক, মুরতাদ, ইসলামবিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার কথা বলা হলেও ধীরে ধীরে ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়ায় হেফাজতে ইসলাম। ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ এপ্রিল সংগঠনটি ঢাকা অবরোধ করে। এরপর ওই বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে। কিন্তু সেখানে ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবির বদলে বিএনপি-জামায়াতকে সাথে নিয়ে সরকার পতনের ডাক দেয় সংগঠনটি। সরকার পতনে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার খুঁটি হিসেবে মাদ্রাসাছাত্রদের ব্যবহার করায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার পর সংগঠনটি দীর্ঘদিন চুপ ছিল। হেফাজতের অভ্যন্তরে বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতারা চুপ হয়ে যান। এরপর সম্প্রতি আবার বিএনপি-জামায়াতপন্থী ওই নেতারা সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে। তারাই আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে ইস্যু করে মাঠে নেমেছেন। এরপর নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছেন দেশজুড়ে। কিন্তু এই তাণ্ডবে অংশ না নেওয়ায় হেনস্তার স্বীকার হন মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ বলেন, হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু এর মধ্যে মামুনুল হকদের মত রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী কিছু নেতা আছেন। তারাই বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হরতাল-সহিংসতার কর্মসূচি দিচ্ছেন। এসব সহিংস কর্মসূচিতে হেফাজতের শান্তিপ্রিয় নেতারা অংশ না নেওয়ায় তাদের হেনস্তা করছে মামুনুলপন্থীরা। তারা মাওলানা আব্দুল আউয়ালের মত একজন প্রবীণ নেতাকে হেনস্তা করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে তারা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আগে থেকেই সহিংসতার ছক এঁকে রেখেছিলেন। এখন মাওলানা আব্দুল আউয়ালের পদত্যাগে বিষয়টি দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠলো।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের মধ্যেও ক্ষুব্ধতা তৈরি হয়েছে। একজন বয়োবৃদ্ধ ওস্তাদকে হেনস্তার কথা শুনে জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের হেনস্তার বিচার দাবি করেছেন। সেই সাথে হেনস্তাকারী মামুনুলপন্থী নেতাদের হেফাজতে ইসলাম থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি