বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » এ কেমন বর্বরতা : ৮৭ বছরের বৃদ্ধা মাকেও ছাড়লেন না হেফাজত কর্মীরা!



এ কেমন বর্বরতা : ৮৭ বছরের বৃদ্ধা মাকেও ছাড়লেন না হেফাজত কর্মীরা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.04.2021

সারাদেশে মোদিবিরোধী আন্দোলনের নামে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে হেফাজতের নেতাকর্মীরা। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে যখন দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে ঠিক সেসময় জানা গেল শুধু ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস নয়, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর ভাইসহ ৮৭ বছরের বৃদ্ধা মাকে বেধড়ক পিটিয়েছে হেফাজতের কর্মীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শিকারপুর এলাকায় গত ২৯ মার্চ পুলিশের ওপর হেফাজত কর্মীদের হামলার পর সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আব্দুল হামীদের (মধুপুরী পীর) মৃত্যুর গুজব রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.কে. এম আলমগীর কবিরের মধুপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির ৫টি কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আলমগীর কবিরের ৮৭ বছরের রত্নগর্ভা বৃদ্ধা মা নুর জাহান বেগম ও সেজু ভাই মুনসুর সাদী (৫৫)। দুজনকেই নির্মমভাবে পেটানো হয়। গুরুতর আহত নূরজাহান বেগমকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ও মুনসুর সাদীকে রাজধানীর ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুন্সিগঞ্জের জনগণ। রাজানগর ইউনিয়নের এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এ কেমন বর্বরতা! রাজনৈতিক কারণে হামলা-সংঘর্ষ হয় জানতাম। কিন্তু ছেলের রাজনীতির জন্য যারা নিরীহ বৃদ্ধার ওপর হামলা করে তারা তো মানুষ না! এ হামলা আমাকে ৭১ সালে পাক বাহিনীর নৃশংসতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, আমরা কি এই বর্বরতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। অবিলম্বে ধর্মের নামে ক্ষমার অযোগ্য এই বর্বর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।

এদিকে, এই হামলার ঘটনাটি নিয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুর সম্রাট আলী আকবর সঙ্গীতালয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, মসজিদে কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে, সাংবাদিককে জোর করে কালেমা পড়তে বাধ্য করেছে তারা কোন ধর্মের অনুসারী নয়। এরা ধর্মের নামে অধর্মের রাজত্ব কায়েমের মিশনে নেমেছে। একাত্তরের রাজাকার-পাক বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে এই অপশক্তি। এদের প্রতিরোধে দেশের বিবেকবান মানুষের নেমে আসা উচিত। হেফাজতের এসব হামলা-বর্বরতায় অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত এদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি