মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » তাণ্ডব চালাতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করে বিএনপি!



তাণ্ডব চালাতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করে বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.04.2021

নিউজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অজুহাত তুলে হঠাৎ করেই ২৪ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দলীয় সব কর্মসূচি স্থগিত করে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। কিন্তু এরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী তাণ্ডব চালায় একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী। জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে এই তাণ্ডব চালিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত চক্র। এই তাণ্ডব চালানোর জন্যই বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত করে।

জানা গেছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত ২২ নভেম্বর এক বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু কর্মসূচি ঘোষণার সময়ই প্রশ্ন উঠেছিলো স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ থেকে কিভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মত মহান একটি বিষয় উদযাপন করবে বিএনপি? যে দল দেশের স্বাধীনতাই চায়নি, দেশের জনগণের ওপর হানাদার পাক বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল তাদের সাথে থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করার ঘোষণাকে তখনই দেশের মানুষ নাটক বলে উল্লেখ করেছিল।

সূত্র জানায়, নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টি করতেই ২৪ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান স্থগিত করে বিএনপি। এই সময় তারা করোনার অজুহাত দেখায়, আদতে হেফাজতে ইসলামসহ সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী শক্তির সাথে গোপনে সহিংসতার পরিকল্পনা করে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল, সরাসরি মোদিবিরোধী ঘোষণা দিবে না বিএনপি, কারণ এতে ভারতীয় দূতাবাসে নালিশ জানানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে গোপনে পরিকল্পনা করা হয়, কর্মসূচি ঘোষণা করবে হেফাজতে ইসলাম আর মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করবে ছাত্রদল-শিবির ক্যাডাররা। এরপর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভের নামে হইচই শুরু করে। এই সুযোগে বিএনপি-শিবিরের নেতাকর্মীরা মসজিদের উত্তর এবং দক্ষিণ গেট দিয়ে বের হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় শার্ট-প্যান্ট পরিহিত অসংখ্য যুবককে দেখা গেছে, যারা হেফাজতের কর্মী নয়। একইভাবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতকে সামনে রেখে তিনদিন ধরে নারকীয় তাণ্ডব চালায় বিএনপি- জামায়াতের ক্যাডাররা। এরপর আর ব্যানারে আড়ালে না থেকে ২৯ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করে বিএনপি। এরপর ৩০ মার্চ বিক্ষোভের নাম করে চট্টগ্রাম, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এমনিতেই জামায়াতের কারণে ভারতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক খারাপ। এরমধ্যে নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমি। কিন্তু তারা তো আমার কথা শুনলো না। এখন এই যে সহিংসতায় এতগুলো প্রাণ গেল আর অনেক জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ধরা খেল এতে তো দলেরই ক্ষতি হল। আর মোদির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের কারণে ভবিষ্যতে ভারতের সাহায্য পাওয়া আরও কষ্ট হয়ে যাবে। এতে বিএনপির ক্ষমতায় যাপার বিষয়টি কঠিন হয়ে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাস সিংহ রায় বলেন, জামায়াতের সাথে থাকাই তো প্রমাণ করে বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উপলক্ষে তাদের অনুষ্ঠানের ঘোষণা যে লোক দেখানো ছিল তা সবাই জানত। দেশব্যাপী তাণ্ডবের মূলহোতা যে বিএনপি সেটি তো তাদের নেত্রী নিপুণ রায়ের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনাতেই বোঝা গেছে। কিন্তু এভাবে সহিংসতা করে তো আর ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। ২০১৩ সালেও সহিংসতা করে কিছুই করতে পারেনি দলটি। বরং জনসমর্থন কমেছে। এখন আবারও সহিংসতা-অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে দলটি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি