বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » তারেকের নির্দেশে মারুফ কামালকে অব্যাহতি, খালেদার ক্ষোভ



তারেকের নির্দেশে মারুফ কামালকে অব্যাহতি, খালেদার ক্ষোভ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.04.2021

নিউজ ডেস্ক: কারান্তরীণ অবস্থা থেকে মুক্ত না করা এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালার দলীয় ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না রাখতে বলার নেপথ্য মানুষটি আর কেউ নন, তারই জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলের সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজের গর্ভধারিনী মাকেই সর্বত্র থেকে সরিয়ে ফেলার চক্রান্ত করছেন। তারই অংশ হিসেবে এবার তিনি মিথ্যে অভিযোগ এনে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

নির্ভরশীল সূত্রের তথ্যমতে, প্রমাণিত দুর্নীতি মামলায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর যেন ভাগ্য প্রসন্ন হয়ে ওঠে তারই জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের। লন্ডনে পলাতক অবস্থায় তিনি গড়ে তোলেন নিজের সাম্রাজ্য। কমিটি-পদ-মনোনয়ন বাণিজ্যের পাশাপাশি তিনি খালেদার মুক্তির নাম করেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অর্থদাতার কাছ থেকে নিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ। দেশে থেকে তার এসব অপকর্ম দেখভাল করতেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও তার ‘ডান হাত’ খ্যাত রুহুল কবির রিজভী। বর্তমানে তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায়, রীতিমত মাথায় হাত তারেকের। তাই ‘যাচ্ছে তাই’ সিদ্ধান্ত ও কর্ম করছেন তিনি।

তারই অংশ হিসেবে তিনি কাজে নিষ্ক্রিয় থাকার মিথ্যে অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে অব্যাহতির চিঠি ইস্যু করেছেন দলের দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। সোমবার (৫ এপ্রিল) মারুফ কামালের অব্যাহতির চিঠি গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মারুফ কামালের কাছে পাঠানো হবে। আর এ খবর শোনার পর থেকেই রেগে আগুন খালেদা।

তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খবরটি শোনার পর থেকেই বিএনপি নেত্রী প্রচণ্ডভাবে রেগে আছেন তারেকের উপর। বলছেন, এতো সাহস পায় কি করে সে? কিভাবে তারেক তাকে না জানিয়ে সোহেলের মতো বিশ্বস্ত মানুষকে অব্যাহতি দেয়? আসলে কি চায় সে? কি প্রমাণ করতে চায়? সে-ই দলের সর্বসবা আর খালেদা কিচ্ছু না!

বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপনে এ বিষয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজকের মধ্যেই চিঠিটি মারুফ কামাল খানের কাছে পাঠানো হবে। আর কাজটি আমি নিজ থেকে করিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশেই করেছি।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান মুরব্বী মানেন না। এর আগেও তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিভিন্নভাবে অপমান-অপদস্ত করেছেন। এবার সেই কাতারে পড়লেন তার নিজের গর্ভধারিনী মা। তিনি তার কোন কথা যে শোনেন না, সেই উৎকৃষ্ট উদাহরণ মিললো বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে। এ থেকে আরেকবার তারেকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রমাণ মিললো। জানা গেলো, অনাগত দিনেও তার সঙ্গে কি ঘটতে চলেছে!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি