বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » শৃঙ্খলা ভঙ্গের দোহাই দিয়ে মারুফ কামালকে অব্যাহতি, নেপথ্যে মির্জা ফখরুল!



শৃঙ্খলা ভঙ্গের দোহাই দিয়ে মারুফ কামালকে অব্যাহতি, নেপথ্যে মির্জা ফখরুল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.04.2021

নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত ও দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কড়া সমালোচনার অজুহাত তুলে মারুফ কামাল খানকে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা মারুফকে সরানোর মূল কারণ নয়, মূলত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরই তার অনুগত নেতাদের সরিয়ে বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একক রাজত্ব কায়েমের রাজনীতির বলি হয়েছেন মারুফ কামাল খান।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে মির্জা ফখরুলের রহস্যময় ভূমিকার কারণে বিভিন্ন সময় তার বিরোধিতা করতেন মারুফ কামাল খান। দলের চেয়ারপারসন কারাগারে আর দলের স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য পিকনিক মুডে দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন বিষয়টি ভালোভাবে দেখতেন না মারুফ কামাল। তাই বিএনপিকে সরকারবিরোধী রাজনীতিতে ফেরাতে দলের দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করতে বলতেন। করোনাকালে মির্জা ফখরুল ঘরে বসে থাকলেও ২০-৩০ জন কর্মী নিয়ে হলেও রাজপথে সরব থাকতেন রুহুল কবির রিজভী। বিষয়টি উল্লেখ করে মারুফ কামাল প্রায় সময়ই খালেদা জিয়াকে বলতেন, রিজভী দুঃসময়ের নেতা। বিএনপিকে আন্দোলনের ট্র্যাকে ফেরাতে হলে রহস্যময় মির্জা ফখরুলের জায়গায় রিজভীকে নিয়ে আসা উচিৎ। বিষয়টি নিয়ে খালেদাও পজিটিভ ছিলেন। কিন্তু দলের সব সিদ্ধান্ত তার হাতে নাই উল্লেখ করে খালেদা মারুফকে তার অসহায়ত্বের কথা বলতেন।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজার এক কর্মকর্তা বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপপ্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মারুফ কামাল খান। তিনি খালেদার খুবই বিশ্বস্ত। তাই ২০০৯ সালে তাকে চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে একটি পক্ষ তাকে সরাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছিল। এতদিন তারা সফল হয়নি। কিন্তু রিজভী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরই সুযোগ নেন মির্জা ফখরুল। বিএনপিতে নিজের ক্ষমতার বলয় সুরক্ষিত করতে দলের সিদ্ধান্ত না মানার কথা বলে মারুফ কামালকে সরালেন তিনি। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে অভিহিত করে ওই কর্মকর্তা বলেন, দুঃসময়ে যারা দলের জন্য নিরলস কাজ করেছে তাদের এভাবে সরিয়ে দিলে বিএনপির কর্মীরা আরও হতোদ্যম হয়ে পড়বে। মারুফ কামালের অব্যাহতির বিষয়টি খুবই খারাপ প্রভাব ফেলবে।

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মারুফকে অনেক দিন ধরে চিনি। সে ভদ্র-মার্জিত ছেলে। দলের জন্য নিবেদিতও। কিন্তু তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হল বুঝলাম না! বিগত দিনে বিএনপির অনেক কাজেরই সমালোচনা করেছি আমি, কিন্তু সেগুলো দলটির ভালোর জন্যই। এখন দলের ভালোর জন্য কথা বলে যদি মারুফ কামালের মত ত্যাগী লোককে অব্যাহতি পেতে হয়, তাহলে বলতেই হবে বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে ভালো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আমি মনে করি, বিএনপির অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক উপায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। যদি দলের ভেতরেই গণতন্ত্রের চর্চা না থাকে তাহলে গণতন্ত্রের আন্দোলনে জনগণ কীভাবে বিএনপির প্রতি আস্থা পাবে?

এদিকে মারুফ কামালের অব্যাহতি সংক্রান্ত চিঠি বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের দপ্তরে ইস্যুর বিষয়টি শুনেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মারুফ কামালের অব্যাহতির বিষয়টি শোনার পর থেকেই খালেদা খুবই বিমর্ষ হয়ে আছেন। বারবার বলছেন, আমার একজন বিশ্বস্ত লোককে এভাবে সরিয়ে দেওয়া হল, কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। নিজের হাতে যে দলকে এতদূর টেনে নিয়ে এসেছিলাম সেই দলকে কী এরা টিকে থাকতে দেবে না!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি