মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে হেফাজতের যত তৎপরতা



মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে হেফাজতের যত তৎপরতা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.04.2021

রাজধানীর অদূরে সোনারগাঁ রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারির পর প্রায় এক ডজন অডিও-ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এতে মাওলানা মামুনুল হকের অনৈতিক কর্ম এবং ধর্ম ব্যবসার স্বরূপ দেশবাসীর কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়ায় এসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে সাম্প্রদায়িক সংগঠনটি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে হেফাজতের সাথে যোগ দিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে সংগঠনটির পেছনের শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের পেইড এজেন্টরা।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে নারীসঙ্গীসহ স্থানীয় লোকজনের কাছে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। সেই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের প্রশ্নবাণে ধরাশায়ী হয়ে স্ত্রীর পরিচয় নিয়ে এলোমেলো উত্তর দেন মামুনুল হক। এছাড়া রিসোর্টের রেজিস্টারে তিনি নারীসঙ্গীর নাম উল্লেখ করেন আমেনা তৈয়বা। কিন্তু মামুনুলের সাথে থাকা নারী জানান তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। উল্লেখ্য, আমেনা তৈয়বা মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রীর নাম। এরপর সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে হেফাজতের একদল নেতা–কর্মী, মাদ্রাসাছাত্র মিছিল নিয়ে এসে রয়েল রিসোর্ট নামের ওই অবকাশযাপন কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর চালিয়ে মামুনুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মামুনুল হকের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর ১০ নম্বর অঞ্চলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ। হেফাজত অভিযোগে বলে, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনির নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মামুনুল হকের ওপর হামলা চালান। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় জনগণ মামুনুল হকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে রিসোর্ট ঘেরাও করেছিল।

সোনারগাঁ থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ দিয়ে হেফাজতের নেতারা থানার ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে ৭১ টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি বুলবুল আহম্মেদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলে হেফাজতের কর্মীরা। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, হেফাজত কতটা সহিংস তা এই ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে। তাদের নেতার কুকর্ম মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ায় তারা সাংবাদিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। থানার ভেতরে তাদের এরকম আচরণই প্রমাণ করে তারা কতটা ভয়ংকর।

সূত্র জানায়, মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারির পর হেফাজতের ধর্ম ব্যবসা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে দেশে তিনদিন ব্যাপী হেফাজত-বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের বিষয়ে ৪ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারলারে কাজ করা এক মহিলা। এদিকে বউ হিসেবে পরিচয় দেন। আবার নিজের বউয়ের কাছে বলেন যে ‘অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটা বলে ফেলেছি।’ যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন, এ রকম মিথ্যা কথা বলতে পারেন? অসত্য কথা তারা বলতে পারেন? তারা মানুষকে কী ধর্ম শেখাবেন? এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন ঘিরে যে সংঘাত–সহিংসতা হয়েছে, তাতে হেফাজতে ইসলাম একা নয়, তাদের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপি রয়েছে। হেফাজতকে তাণ্ডব, জ্বালাও–পোড়াওয়ের পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি।

এরপর দিন ৫ এপ্রিল জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বৈঠক করেন। পরদিন ৬ এপ্রিল বৈঠকের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমে জানান তারা। বিজ্ঞপ্তিতে হেফাজত বলে, মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে হেনস্তা করা হয়েছে। হেনস্তাকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায় সংগঠনটি। সেইসাথে মামুনুল হককে নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

হেফাজতের বিজ্ঞপ্তির পর প্রশ্ন ওঠে, মামুনুলের অনৈতিক কর্মের দায় কি এড়াতে পারেন? যখন একজন নেতার অপকর্মের পক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয় তার অর্থ ওই অনৈতিক কর্মকে তারাও সমর্থন করেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানানোর অর্থ দাঁড়ায় হেফাজত তাদের নেতার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাফাই গাইছে।

ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসেন বলেন, ‘মামুনুল হককে একজন শীর্ষ পর্যায়ের আলেম হিসেবে জানত সবাই। সারাদেশে উনার অসংখ্য অনুসারী রয়েছে। তার এই নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় সারাদেশের আলেম সমাজের ওপর মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে। এইভাবে মুখে ধর্মের কথা বলে যদি নিজেরাই এসব অনৈতিক কাজে জড়িত হন তবে আলেম সমাজের নেতারা মুখ দেখাবেন কি করে? হেফাজতের নেতাদের অপকর্মের দায়ে সব আলেমের সম্মান নষ্ট হোক সেটা আমরা চাই না। মামুনুল হকের মত নেতাদের অপকর্মের পক্ষে হেফফাজতের বাকি নেতাদের সাফাই গাওয়া ঠিক হবে না বলেও জানান মাওলানা আলতাফ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি