বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » অব্যাহতিকে পরম স্বস্তির মুক্তি বলছেন মারুফ কামাল, তবে কি ‘বন্দি’ ছিলেন তিনি?



অব্যাহতিকে পরম স্বস্তির মুক্তি বলছেন মারুফ কামাল, তবে কি ‘বন্দি’ ছিলেন তিনি?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.04.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিবের পদ থেকে অব্যাহতির তিন দিন পর মুখ খুলেছেন মারুফ কামাল খান। গত সোমবার প্রেস সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় মারুফ কামালকে। বুধবার অব্যাহতি প্রসঙ্গে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। যেখানে মারুফ কামাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি অনেক সময় আশীর্বাদ আসে অভিশাপের মুখোশ পরে। আমার কাছে এটা পুরোই আশীর্বাদ বলেই মনে হচ্ছে। মানবিক দায়বোধ থেকে অনেক সময় অনেক দায়িত্ব নিজে থেকে ছাড়া যায় না। সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি মিললে সে তো এক পরম স্বস্তির মুক্তি। আমি সেভাবেই দেখছি। এ এক অনুপম স্বাধীনতা।’

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া একধরনের শাস্তি। কিন্তু সেই শাস্তি পেয়েও কেন তাকে আশীর্বাদ বলছেন মারুফ কামাল? কী কারণে অব্যাহতিকে বলছেন পরম স্বস্তির মুক্তি? এর উত্তরও তিনি তার স্ট্যাটাসেই দিয়েছেন। মারুফ কামাল বলেছেন, ‘আমি যার জন্য কাজ করতাম, তিনিই বেড়াজালে পড়ে বাধ্যতামূলকভাবে আজ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। কাজেই আমার এমনিতেই কাজ ছিলনা। তাছাড়া এটি হয়ে উঠেছিল কোনো কোনো মহলের চরম ঈর্ষা ও বিদ্বেষের উৎস। এ পরিস্থিতি থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দেয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’

মারুফ কামালের স্ট্যাটাসের এই অংশটিতে এসেই সব রহস্যের উত্তর মেলে। বস্তুত বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিবের পদটি ছিল নামমাত্র। তার কোন কাজ ছিল না। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একজন উপ-প্রেস সচিব, যিনি সারা জীবন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তাকে একটি পদবীর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হলে, যে পদ বাস্তবিক অর্থে মূল্যহীন, তাকে একরকম বন্দি করেই রাখা হয়। এর কারণেই এই পদ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তিকে ‘পরম স্বস্তির মুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মারুফ কামাল।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজার এক কর্মকর্তা বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপপ্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মারুফ কামাল খান। তিনি খালেদার খুবই বিশ্বস্ত। তাই ২০০৯ সালে তাকে চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকেই দলের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তার ছেলে তারেক রহমানের হাতে। এরপর থেকে দলের সকল সিদ্ধান্ত আসে লন্ডন থেকে। ফলে খালেদার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় ধীরে ধীরে মারুফ কামালকে সরিয়ে সামনে চলে আসেন তারেকপন্থীরা নেতারা। যার ফলাফল হল, মারুফ কামালের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া, যেটা তিনি নিজেই তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে না পারায় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সমালোচনা করতেন মারুফ কামাল খান। বিশেষ করে মির্জা ফখরুল, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং মির্জা আব্বাসের সমালোচনা করতেন তিনি। একমাত্র বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভয়ডরহীন কাজের প্রশংসা করতেন মারুফ কামাল। করোনা আক্রান্ত হয়ে রিজভী হাসপাতালে ভর্তি হলে মারুফ কামালকে সরানোর উদ্যোগ নেয় তারেকপন্থীরা। যদিও এই খবর শুনে খালেদা জিয়া রেগে যান। খালেদা তারেককে নির্দেশ দেন, তার বিশ্বস্ত ব্যক্তি মারুফ কামালকে যাতে না সরানো হয়। কিন্তু তারেক তার মায়ের কথা শোনেননি। শুনেছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং মির্জা আব্বাসদের কথা। তাদের কথা না শুনেও তারেকের উপায় নেই বলে জানান বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, যদি তারেক তাদের কথা না শুনতেন তাহলে তারা অর্থ দেওয়া বন্ধ করতেন। আর অর্থ ছাড়া তারেক রহমান লন্ডনে কীভাবে পরিবার নিয়ে থাকবেন, দলই বা কীভাবে চলবে!

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি মারুফের স্ট্যাটাসটি পড়েছি। পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। তার প্রেস সচিবের পদটি নাকি কোনো মহলের চরম ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারণ হয়ে উঠেছিল। এটা তো খুবই খারাপ কথা। খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তিকে যদি এভাবে বিএনপির ভেতরের লোকেরাই ঈর্ষা থেকে সরিয়ে দেন তাহলে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব দেশের জন্য সামনে ভালো কিছু করবেন কীভাবে? তাদের ওপর মানুষ আস্থা পাবে কীভাবে?



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি