বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কেন মিথ্যাচার, মামুনুলকে প্রশ্ন সমর্থকদের!



প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কেন মিথ্যাচার, মামুনুলকে প্রশ্ন সমর্থকদের!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
08.04.2021

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসঙ্গীসহ স্থানীয় জনগণের কাছে আটকের পাঁচদিন পর বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক। এতদিন নানা মাধ্যমে মামুনুল হকের সমালোচনা হচ্ছিল। সে বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিতেই লাইভে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু লাইভে এসে বরং আরও ফেঁসে গেছেন এই হেফাজত নেতা। মামুনুলের ফেসবুক লাইভে তার সমর্থকরা নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন তাকে। প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারই সমর্থকরা। যে সমর্থকরা তাকে এত ভালোবাসতেন তার এই মিথ্যাচারে তাদের বিশ্বাস ভেঙ্গে গেছে বলেও জানিয়েছেন অনেক সমর্থক।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে গোপনে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করার সময় স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হন মামুনুল হক। ওই দিন জনগণের প্রশ্নের মুখে তিনি দাবি করেছিলেন, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু পরে কয়েকটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী জানতেন না। তা ছাড়া রিসোর্টে রেজিস্ট্রি খাতায় আমিনা তায়্যিবা হিসেবে উল্লেখ করেন মামুনুল। কিন্তু পরে জানা যায় তার সাথে নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্না। এসব মিথ্যাচারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তার অনেক সমর্থক।

মামুনুল হক লাইভে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি।’ তিনি দাবি করেন, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ও বাংলাদেশের আইনে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এ প্রসঙ্গে রুমা আলী নামে একজন সমর্থক লাইভ ভিডিওতে কমেন্ট করেছেন, ‘আপনি কেন আপনার প্রথম স্ত্রী নাম ব্যবহার করে কেন মিথ্যাচার করলেন? আপনার কাছে মুসলিম জনগণ প্রত্যাশা করেনি৷ আপনি শরিয়ত মতো একাধিক বিবাহ করতেই পারেন, তবে সত্য পরিচয় দিতেন তবে এতো নিন্দিত হতেন না৷’

রুবেল সাদ নামে একজন প্রশ্ন করেছেন, ‘জান্নাত আরা ঝর্না আপনার স্ত্রী মানলাম, তাহলে নামের ক্ষেত্রে বার বার আমিনা তায়্যিবা লিখলেন বললেন কেন? আর আপনার স্ত্রীর কাছে শহীদুল ভাই এর স্ত্রী কেন বললেন?’

সারাদেশে সহিংসতায় যখন হেফাজত কর্মীদের অনেকের মৃত্যু হয়েছে ঠিক সেসময় নেতা হয়ে মামুনুল হকের অবকাশযাপনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মো. রুপসান নামে এক ব্যক্তি মামুনুল হকের লাইভে প্রশ্ন করেছেন, ‘শায়েখ!এই ১৭ টা তাজা প্রান যাওয়ার পরেও আপনার রিসোর্টে রিল্যাক্স করতে যাওয়া টা কে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?’

উল্লেখ্য, মামুনুল হক হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনের নামে সারাদেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজত কর্মীরা। এসময় অনেকের মৃত্যু হয়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সহিংস এসব কর্মকাণ্ডে হেফাজত নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরাও।

আজকের লাইভ ভিডিওতে মামুনুল হক সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করেন। এ ছাড়া স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা–কর্মীদেরও দায়ী করেন। কিন্তু স্থানীয় জনগণ ওই দিন তাকে ঘেরাও করলে হেফাজতে ইসলামের নেতা–কর্মীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। এরপর মামুনুলের ঘেরাওয়ের সংবাদ প্রচার করায় এক সাংবাদিককে পিটিয়েছেন হেফাজত সমর্থকরা। ওই সাংবাদিকের নাম হাবিবুর রহমান। তিনি চ্যানেল এস নামের একটি বাংলা টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। গত সোমবার রাতে সোনারগাঁয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের ভাটিরচর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পেটায় হেফাজত সমর্থকরা। যদিও আজকের লাইভ ভিডিওতে এসব বিষয়ে কিছুই বলেননি মামুনুল। শুধু নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের কথা বলে গেছেন তিনি।

লাইভে এসে মামুনুল বলেন, যারা তার ব্যক্তিগত কথা জনসম্মুখে এনেছেন, তিনি (মামুনুল) তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করবেন। এ বিষয়ে মো. দিদার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘হুজুর ফোনালাপ ফাঁস করা অপরাধ ঠিক আছে তাহলে আপনি দুই জায়গায় মিথ্যা কেন বললেন ফোনে বললেন আপনার বন্ধুর স্ত্রী এখন বলেন আপনার স্ত্রী তারমানে ফোনালাপ আপনি স্বীকার করলেন আপনার ছিল অপরাধ তারা করছে ঠিক আছে। অন্তত আপনার মত দায়িত্বশীলের কাছ থেকে এ ধরনের আচরন দেশের ধর্মপ্রান মুসলিমরা কামনা করেনা।’

জাহিদুল ইসলাম পারভেজ নামে একজন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘রিসোর্ট থেকে মেয়েটারে ফেলে কর্মীদের সঙ্গে পালিয়ে যাও আবার বাঁচার জন্য মেয়েটাকে বউ বলে ঢাল বানাও।’

এদিকে মামুনুল হকের লাইভ নিয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করেন তাদের তো নিজেদের জীবনে তার প্রতিফলন থাকতে হবে। কিন্তু নিজেরা ভোগ বিলাস করবেন, আবার জনগণকে ধর্মের নামে কষ্টের জীবনযাপনে উৎসাহিত করবেন তা তো হয় না। এটা প্রতারণা। মামুনুল হক আজকের লাইভেও নিজেকে বাঁচাতেই ব্যস্ত ছিলেন। অনেক বিষয় তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এখন ধর্মপ্রাণ জনগণের উচিত এরকম ভণ্ড মুখোশধারী আলেম নামধারীদের থেকে সাবধান হওয়া।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি