বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ভুয়া কাবিননামা জোগাড়ের চেষ্টা করছেন মামুনুল!



ভুয়া কাবিননামা জোগাড়ের চেষ্টা করছেন মামুনুল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
09.04.2021

নিউজ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসঙ্গীসহ স্থানীয় জনগণের কাছে আটকের পর হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। এরপর নিজেকে বাঁচাতে যে নারীর সাথে মামুনুল ধরা পড়েছিলেন, তার সাথে বিয়ের ভুয়া কাবিননামা জোগাড়ের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে গভীর নজরদারি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কেউ যদি এরকম কোনো কাজে মামুনুল হককে সাহায্য করেন তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে গোপনে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করার সময় মামুনুল হককে স্থানীয় জনগণ ঘেরাও করেন। ওই দিন জনগণের প্রশ্নের মুখে তিনি দাবি করেছিলেন, সঙ্গে থাকা নারী তার স্ত্রী। কিন্তু রিসোর্টে থাকা রেজিস্ট্রি খাতায় ওই নারীর নাম আমিনা তায়্যিবা হিসেবে উল্লেখ করেন মামুনুল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার সাথে নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। আর মামুনুলের স্ত্রীর নাম আমিনা তায়্যিবা। এতে মামুনুলের মিথ্যাচার ধরা পড়ে। এরপর নিজেকে বাঁচাতে মামুনুল বলেন, তার সাথে থাকা নারীকে দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু তিনি এই বিয়ের কাবিননামা দেখাতে ব্যর্থ হন।

৩ এপ্রিল রয়্যাল রিসোর্টে থাকা সংবাদকর্মীরা জানান, মামুনুল আটক থাকা অবস্থায় স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতা–কর্মীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে একা ফেলেই চলে যান মামুনুল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাওয়ার পর মামুনুল প্রথম স্ত্রীকে ফোন করেন। ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপে অনেক কিছুই খোলাসা হয়।

ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপে হেফাজত নেতা মামুনুল হক তার স্ত্রীকে বলেন, তার সঙ্গে থাকা ওই নারী জনৈক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। পরিস্থিতির কারণে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। মামুনুল তার স্ত্রীকে বলেন, ‘পুরো বিষয়টা আমি তোমাকে সামনে এসে বলব। ওই মহিলা যে ছিল সে হলো আমাদের শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের ওয়াইফ। ওটা নিয়ে সেখানে পরিস্থিতি এমন হয়ে গিয়েছিল যে, এটা বলা ছাড়া…. আমাকে ইয়ে করে ফেলছে-বুঝছো?’ তখন তার স্ত্রী বলেন,‘আচ্ছা, বাসায় আসেন, তারপর যা বলার বইলেন।’ এরপর মামুনুল বলেন, ‘বলুম তো, তুমি বিষয়টা.. অন্যান্য কথা অন্যদের বলতে হবে। পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে। তুমি আবার মাঝে অন্যকিছু মনে কইরো না। তোমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবা, হ্যাঁ, আমি বিষয়টা জানি।’ এরপর তার স্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে।’

ওইদিন রাত ১০ টার পর ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হক দাবি করেন, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তখনও তিনি কাবিননামা দেখাতে ব্যর্থ হন।

সূত্র জানায়, মিথ্যাচার ফাঁস হয়ে পড়ায় মামুনুল নিজেকে বাঁচাতে দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নানা মাধ্যমে কাবিননামা জোগাড়ের চেষ্টা করেন তিনি। মোহাম্মদপুর কাজী অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র এসে গোপনে বিয়ের কাবিননামা তৈরির বিষয়ে জানতে চান। কত টাকা দিলে কাবিননামা তৈরি করা যাবে সেটি জানতে চান। কিন্তু কাজি অফিসের কেউ এ কাজে রাজি হননি। কাজি অফিস থেকে মাদ্রাসাছাত্রদের বলা হয়, এ বিষয়ে পুলিশি ঝামেলা হতে পারে। আর ভুয়া কাবিননামা আমরা কেন করব। কেউ আগের বিয়ের কাবিননামা তৈরি করতে চাইলে সেটি তো বে-আইনি, আমরা সেটা করতে পারি না। ওই ছাত্রদের মামুনুল হক পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মামুনুল হকের মিথ্যাচার ফাঁস হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গীদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কেউ যদি বেআইনিভাবে কাবিননামা তৈরি করেন কিংবা এ কাজে মামুনুল হককে সাহায্য করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরকম বেআইনি কাজের কোনো আলামত পেলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্যও বলা হয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি