মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১



গুজব ছড়িয়ে নিজেই ভিডিও সরালেন মামুনুল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.04.2021

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রিসোর্ট-এ কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন হেফাজতে ইসলামের অন্যতম নেতা মামুনুল হক। গত ৩ এপ্রিল ওই কাণ্ডের পর অনেকটা আত্মগোপনেই ছিলেন তিনি। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। তাকে গ্রেফতারের গুঞ্জনও ওঠে। সেই সঙ্গে প্রথম স্ত্রীসহ বিভিন্ন জনের সংগে মোবাইল ফোনের কথোপকথন ফাঁস হয়। এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় চরম বিতর্ক।

এমন সব পরিস্থিতিকে পাশ কাটিয়ে হোটেলকাণ্ডের ৪ দিন পর গত ৮ এপ্রিল বিকেলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে ফেসবুক লাইভে আসেন মামুনুল হক। লাইভে ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডগুলো নিজের বলে জানান। কথার শুরুতে তাঁর সমর্থকদের ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার দেয়ার আহ্বান জানান। প্রায় ৩৬ মিনিটের ওই লাইভ ভিডিওতে মামুনুল হক নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে নানান ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী ও বাংলাদেশের আইনে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। একজন পুরুষ চারটি বিয়ে করতে পারেন। আমি চারটি বিয়ে করলে কার কী?’

প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ের করার ব্যাখ্যায় মামুনুল হক বলেন, ইসলাম অনুযায়ী স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।

তাঁর এসব ব্যাখ্যা নিয়ে পরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এমনকি হোটেলকাণ্ডের পর যারা মামুনুল হকের পক্ষ নিয়েছিলেন তাদের অনেকেও এসব ব্যাখ্যায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

চরম বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকালের দিকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন মামুনুল হক। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আর সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, ফেসবুকের লাইভ ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে হেফাজতের শীর্ষ নেতারাও এটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ কারণেই তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছেন।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকালে মামুনুলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে গিয়ে দেখা যায়, লাইভের ভিডিওগুলো সরিয়ে শুক্রবার সকালে ফেসবুকে আরবি ভাষায় একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। ওই স্ট্যাটাসের অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্দেশ করেছেন তা ছাড়া আর কিছুই হবে না। হে আল্লাহ, আমাদের সমস্যা থেকে রক্ষা করুন এবং নিরাপদ করুন।

এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার সকাল থেকে মামুনুল হক-এর সংগে কয়েকদফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ৩ এপ্রিল হোটেলকাণ্ডের পর ৫ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসায় জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ওই বৈঠকে মামুনুল হককে আপাতত নীরব থাকার পরামর্শ দেন তারা। কিন্তু এমন পরামর্শ উপেক্ষা করে মামুনুল হক ৮ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে আসেন। ওই লাইভে তিনি যেসব কথা বলেছেন সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যরসে পরিণত হয়েছিলো। সেই সংগে আরও সমালোচনায় পড়েছিলো হেফাজতে ইসলাম। তাই শীর্ষ নেতারা তাকে ভিডিওটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি