শনিবার ১৫ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ৩টি ফোনালাপের সূত্র ধরে মামুনুলের তৃতীয় প্রেমিকা সনাক্ত (ফোনালাপ শুনুন)



৩টি ফোনালাপের সূত্র ধরে মামুনুলের তৃতীয় প্রেমিকা সনাক্ত (ফোনালাপ শুনুন)


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.04.2021

নিউজ ডেস্ক: মামুনুল হকের তার কথিত স্ত্রী জান্নাত জান্নাত আরা ঝর্নাকে নিয়ে রিসোর্টে আটক হওয়ার রেশ না কাটতেই আরেক বান্ধবীর সন্ধান পেয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। নতুন এ প্রেমিকার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট মামুনুল হক সম্পর্কে ছায়া অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই তথ্য পায়।

জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌসের নতুন স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড অনুযায়ী তার বাবার নাম জামাল। মা আকলিমা বেগম। ঠিকানা- গাজীপুর কাপাসিয়ার বানার হাওলা’য়। জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৯০।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন মামুনুলের এই বান্ধবী জান্নাতুল ফেরদৌস। জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক। মাদ্রাসার পাশেই একটি বাসাতে ভাড়া করে থাকেন। এই বাসাতেই মাওলানা মামুনুল হক মাঝে-মধ্যেই যাতায়াত করতেন। নিয়মিত যোগাযোগও ছিল। পাশাপাশি একান্তে সময় কাটানোর অনেক উপকরণও হাতে পেয়েছে গোয়েন্দারা। অনেক তথ্য প্রমাণও এসেছে গণমাধ্যমের কাছে।

এদিকে মাওলানা মামুনুল হক ও নতুন বান্ধবীর একাধিক ফোনালাপ পাওয়া গেছে। এসব ফোনালাপের মাধ্যমে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক ও ওই শিক্ষিকার বাসায় মামুনুলের যাতায়াতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডের পর একটি ফোনালাপের তার তৃতীয় প্রেমিকা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য পাওয়া যায়। ওই ফোনালাপে রয়েল রিসোর্টে থাকা অবস্থায় মুফতি এনায়েতুল্লাহকে ফোন করেছিলেন তিনি। এ সময় মুফতি এনায়েতুল্লাহকে কথিত স্ত্রী নিয়ে রিসোর্টে যাওয়ার কথা জানালে এনায়েতুল্লাহ জিজ্ঞাসা করেন- ‘কোন ভাবী, কাপাসিয়ার?’ মামুনুল হক উত্তরে বলেন, না, খুলনার। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মুফতি এনায়েতুল্লাহ কোনও মন্তব্য করতে রাজী হননি।

তার আগে গত ২৬ মার্চ থেকে মোদিবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই মাওলানা মামুনুল হক ওই নারীর বাসায় গিয়ে একান্ত সময় কাটিয়েছেন। ৪৯ সেকেন্ডের অডিওতে মামুনুল ওই নারীকে বলেন, ‘হ্যালো আমি আসছি।’ উত্তরে ওই নারী বলেন, ‘চলে আসছেন? গেট খোলা আছে।’

মামুনুল বলেন, ‘গেট খুলে আমাকে রিসিভ করার ব্যবস্থা করো। এছাড়া কেউ আছে নাকি দেখো আগে।’ ওই নারী আচ্ছা বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।

ওই বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মামুনুল হক ও ওই নারীর কথোপকথনের আরেকটি ফোনালাপও বের হয়েছে। সেখানে তাদের কথোপকথন নিচে তুলে ধরা হলো-

মামুনুল: চলে আসছি। বুঝছো…। নারী: ঠিক আছে। শুনছি। মামুনুল: চোরের মতো কথা কও কিল্লাইগা। জোরে জোরে কথা কইতে পারো না? নারী: জোরে কে কমু। বেশি করে কমু। সমস্যা কী? মামুনুল: হে হে হে…. গুড নাইট। ফ্রেস-ট্রেস হয়ে নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করো। বুঝছো। নারী: কী হইছে? মামুনুল: ফ্রেস হইয়া নামাজ-টামাজ পরবা না? নারী: হু। মামুনুল: নামাজ পড়ো আর আমার জন্য দোয়া করো। নারী: বাসায় পৌঁছে একটা মেসেজ দিয়েন। মামুনুল: বাসায় পৌঁছে মেসেজ দেওয়ার কী আছে? বাসায় তো পৌঁছায়া গেছি। নারী: কী হইছে। মামুনুল: বাসাতো এইখানে। নারী: আচ্ছা…. যান। মামুনুল: আচ্ছা। নারী: আসসালামু আলাইকুম।

আরেকটি ফোনালাপে মামুনুল হক ও ওই নারীর প্রায় ৩ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের অডিওতে মামুনুল ও ওই নারী রাতে বাইরে একসঙ্গে কাটানোর বিষয়ে কথা বলেন। এছাড়া ওই নারীকে তাকে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও মনে করিয়ে দেন। সেই ফোনালাপ নিচে তুলে ধরা হলো:

নারী: আসসালামু আলাইকুম। মামুনুল: ওলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ। নারী: দেখছো। মামুনুল: না। নারী: তাহলে আগে প্লানটা বলেন। মামুনুল: পিলান-টিলান আর বলতে পারুম না। হাতে সময় বের করতে পারি কিনা। পারলে তখন কি করবো সেটা বলো। নারী: আমি বলি শোনেন। আপা আছে না। মামুনুল: হ্যাঁ। নারী: আপার ইবনে সীনায় কিছু টেস্ট আছে। মামুনুল: হ্যাঁ।

নারী: চাইছিলাম আজকে টেস্টগুলো করতে দেওয়ার জন্য। মামুনুল: হ্যাঁ। নারী: আমি বের হলেও তো এদিকে কাজগুলো পারবো না। আর আপার টেস্টের জন্য বের হলে সাড়ে ৩টার পরে বের হবো। মামুনুল: সাড়ে ৩টায় বের হও। আমার প্রোগ্রাম আরও পরে। তারপর কী করবা। ওনি কী করবে তুমি কী করবা।

নারী: বাসায় নিয়া আমু। আমারে জিগাইসে দেরি হলো কিল্লায়গা। আমি বলেছি ডাক্তারের সিরিয়াল পাইতেছিলাম না। সিরিয়াল পাইতে দেরি হইছে। পরে আমি বলছি আর সমস্যা নাই। আমি বাসায় একলা থাকতে পারবো। থাকতে তো পারবো এটা আমিও জানি। সমস্যা কী? থাকবো। কিন্তু আমি যদি রাতে ব্যাক করি। রাতে তো মনে হয় ব্যাক করা হবে না। আসলে সকালে। বুঝছো।

মামুনুল: সেরকমই তো। এখন কী করবা বলো। ঝামেলা হয়ে গেলো। নারী: আমারে নিয়ে না আপনার কই যাওয়ার কথা। মামুনুল: কোথায়, বলো। নারী: হুঁ। মামুনুল: কই যাওয়ার কথা। নারী: সমুদ্রে যাওয়ার কথা। মামুনুল: না। সেটা তো আলাদা, আলাদা প্রোগ্রাম করতে হবে। সেটা তো আরও কয়েকদিন পরে করবো ইনশাআল্লাহ। নারী: আচ্ছা। আপনি সময় পেলে করবেন। আমি আপারে টেস্ট করায়ে, হয়তো টেস্ট শেষ হতে রাত ৮/৯টা বাইজে যাইতে পারে।

মামুনুল: ওরে বাপরে বাপ। নারী: আল্ট্রা করে যে উনি বসে ৬টায়। ও তো একলা আসতে পারবো না এটা কয়ে লাভ না। বাসা পর্যন্ত। আজকে মনে হয় না হইবো। মামুনুল: আচ্ছা ঠিক আছে। নারী: আর যদি মনে করেন খুব বেশি সমস্যা তাহলে আজকে না কালকে গেলাম। কালকে শনিবার। এখন আপনার ওপর নির্ভর। আপনি তো সময় বের করা সো টাফ।

মামুনুল: সারাদিন তো কাজ-কাম। কোনো কিছু সহজ না। নারী: এহন আপনার ইচ্ছা। আমারে যা কইবেন তাই। আমার অতো শখ নাই। মামুনুল: আচ্ছা তুমি তোমার মতো কাজ চালাইতে থাকো। টেস্ট-মেস্ট করাও তারপর দেখি। নারী: আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে আমি সাড়ে ৩টার পর আপারে নিয়ে বেরুবো। মামুনুল: ঠিক আছে। নারী: আচ্ছা, আসসালামু আলাইকুম। মামুনুল: ওলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ।

আরও একটি ফোনালাপ:

নারী: আসসালামু আলাইকুম। মামুনুল: ওলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ। কী অবস্থা। ঝামেলা নাকি। নারী: না। বলেন। মামুনুল: কথা এমনে কইতাছো ক্যান। মনে হয় যে ঘুমায় ঘুমায় কথা কইতাছো। নারী: ঘুমায় ঘুমায় কথা বলতাছি না। ক্লাসে আছি। অফিসে বসেন। আমি আসতাছি। মামুনুল: কেন আমি অফিসে বসবো। আমি অফিসে বসবো না। আমি এখন কথা বলবো এবং যা ইচ্ছা তাই বলবো।

নারী: বাড়াবাড়ি করতাছেন যে। মামুনুল: কি বাড়াবাড়ি কী করছি আবার। কথা বলা মানুষের বাক স্বাধীনতা। নারী: আপনি তো আমার বাক স্বাধীনতাহরন করছেন। পোলাপাইনের সামনে অনেক কিছু বলতে পারছি না। মামুনুল: হা হা হা। নারী: মজা নিতাছেন। মামুনুল: এটা ঠিক না, এটা ঠিক না। একজনকে লাইনে রাইখা আরেকজনের সঙ্গে কথা বলা। না এটা ভদ্রতা পরিপন্থী কাজ। ওনারা থাকলে এখন তো আর যাওয়া যাইবে না।

নারী: এক ঝামেলার মধ্যে এত রস আসে কোত্থেকে। মামুনুল: আজকেই বিকালে, সন্ধ্যায় আসতাছি। নারী: আরে নাহ। মামুনুল: আচ্ছা ঠিক আছে তুমি জানাও।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি