শনিবার ১৫ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » প্রবীণে ভারাক্রান্ত বিএনপির ভবিষ্যৎ কী?



প্রবীণে ভারাক্রান্ত বিএনপির ভবিষ্যৎ কী?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.04.2021

আগে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা হতো রাজনীতি নিয়ে। কিভাবে কী করলে দলের ভালো হয়, কোথায় আছে সংকট, কী তার সমাধান। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেসব এখন ইতিহাস। করোনার আগে যদিও দু’একজন আসতেন, তারাও মেতে থাকতেন খোশগল্পে। আর করোনা আসার পর সেসব কিছুই মিলিয়েছে ইথারে। অনলাইনে সভার আলোচনা করা হলেও ফলাফল একই, শুন্য। এর পেছনে একটি কারণকেই মূখ্য হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষরা। তারা বলছেন, প্রবীণ নেতাদের ভারে ভারাক্রান্ত বিএনপি। শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই বার্ধক্যে অসুস্থ এবং নিষ্ক্রিয়। এ কারণে পার্টি অফিসে আর সেই আমেজটা নেই।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বহুদিন যোগাযোগ নেই, ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ব্যবসা-বাণিজ্য আর নিজের অসুস্থ শরীর নিয়ে। কখনো সময় কাটছে বাসায়, আবার কখনো বা হাসপাতালে। এমন নেতার সংখ্যা এখন বিএনপিতে অসংখ্য। আর বয়সে তারা অধিকাংশই প্রবীণ।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা রাজনীতিতে পুরোপুরিভাবে নিষ্ক্রিয়। তাদেরকে কোন কাজেই পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাদের ভাষ্য, দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত রয়েছেন। তাছাড়া তার শারীরিক অবস্থাও ভালো না। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও বয়স হয়েছে। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, রুহুল কবির রিজভী, সেলিমা রহমানরাও অসুস্থ। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কালেভদ্রে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেও রাজপথের কোন কর্মসূচিতেই অংশ নিতে পারেন না তারা। সব মিলিয়ে প্রবীণদের কারণে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় বিএনপি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তরুণ ও মেধাবীদের জায়গা করে দেওয়া জরুরি।

একইসুরে কথা বললেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মাঠে থাকলেই নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে। কিন্তু স্থায়ী কমিটিতে এখন যারা আছেন তাদের অধিকাংশেরই মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সামর্থ্য নেই। এজন্য স্থায়ী কমিটিতে তরুণদের জায়গা দিতে হবে।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বেশির ভাগই অসুস্থ। রাজপথে আন্দোলনের ন্যূনতম শারীরিক সক্ষমতা তাদের নেই। দল বাঁচাতে হলে তাই এখনই তাদের সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে আসতে হবে। নতুবা অচিরেই জাদুঘরের রাজনৈতিক দলে পরিণত হবে বিএনপি। আর তার দায় কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না, খালেদা-তারেকসহ বিএনপির এই প্রবীণ নেতৃত্ব।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি