শনিবার ১৫ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » আল্লামা শফী হত্যার রহস্য উদঘাটন, জড়িত বাবুনগরী-মামুনুল!



আল্লামা শফী হত্যার রহস্য উদঘাটন, জড়িত বাবুনগরী-মামুনুল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.04.2021

অবশেষে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফী হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁয়ে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত মামুনুল হকসহ ৪৩ জনকে আল্লামা শফির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেন পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নরহত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে জুনায়েদ বাবুনগরী ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, সহকারী মহাসচিব হাবিব উল্লাহ, হেফাজত নেতা নাছির উদ্দিন মুনির, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, আবদুল মতিন, শহীদুল্লাহ, রিজুয়ান আরমান, জাফর আহমদ, এনামুল হাসান ফারুকী, আনোয়ার শাহ, শফিউল আলমসহ ৪৩ জন রয়েছেন।

জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আহমদ শফীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আদালতে মামলাটি করেন আহমদ শফীর শ্যালক মো. মঈন উদ্দীন।

সূত্র জানায়, শফিকে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা এবং হেফাজত থেকে সরিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেন বাবুনগরী এবং মামুনুল হক। পরিকল্পনা অনুযায়ী শফীর ছেলে আনাসকে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিসহ ছয় দফা দাবিতে ১৬ সেপ্টেম্বর জোহরের নামাজের পর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্ররা। তারা মাদ্রাসার সব কটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। আনাসসহ কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দীন রুহীকে মাদ্রাসার ভেতরে পেয়ে মারধর করেন ছাত্ররা। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে জোর করে আহমদ শফীকে মাদ্রাসাটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে তার ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় শুরা কমিটি।

আহমদ শফীর শ্যালক মো. মঈন উদ্দীন জানান, বাবুনগরী এবং মামুনুলের অনুসারীরা আহমদ শফীকে জোর করে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগে বাধ্য করে তার ওপর নির্যাতন করে। এর ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আল্লামা শফী। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাওয়া হলে হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার কক্ষে বাবুনগরী এবং মামুনুলের অনুসারীরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। মাদ্রাসা মাঠে আহমদ শফীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখা হয়। আর এটি আটকে রাখার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেন এনামুল হাসান ফারুকী। তিনি বাবুনগরী এবং মামুনুল হকের অনুগত। এরপর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী মারা যান। এরপর পরিকল্পনামত নিজেদের অনুসারীদের দিয়ে প্রতিনিধি সম্মেলন করে সংগঠনের আমির হন জুনায়েদ বাবুনগরী।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবশেষে আল্লামা শফীর মৃত্যুর রহস্য বেড়িয়ে এসেছে। ক্ষমতার জন্য একজন সম্মানিত আলেমকে হত্যা করেছে বাবুনগরী এবং মামুনুল গং। অবিলম্বে এই দুই নরহত্যাকারী আলেম নামধারী ক্ষমতালিপ্সুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি