শনিবার ১৫ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » লকডাউনকে তামাশা হিসেবে উল্লেখ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে জামায়াত-শিবিরের মুখপাত্র বাঁশেরকেল্লা



লকডাউনকে তামাশা হিসেবে উল্লেখ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে জামায়াত-শিবিরের মুখপাত্র বাঁশেরকেল্লা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.04.2021

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের উন্নত অনেক দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে উন্নয়নশীল দেশ হয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব এবং দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে এখন পর্যন্ত দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়নি, যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু গত কিছুদিন যাবৎ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় এবং হাট-বাজার, পর্যটন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে মানুষের অবাধ চলাচলের কারণে আবারও করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং ৭০ জনের মত মৃতু্যবরণ করছেন। এই অবস্থায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এই লকডাউনকে তামাশা হিসেবে উল্লেখ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে জামায়াত-শিবিরের মুখপাত্র বাঁশেরকেল্লা।

জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকলে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞরা সরকারকে দুই সপ্তাহের লকডাউনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু করোনা নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর থাকবে। এই সময়ে সঠিকভাবে সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে আর লকডাউনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি গুজবে কান দিয়ে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করে তাহলে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা লাগতে পারে।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতাবিরোধিতা এবং যুদ্ধাপরাধের কারণে দেশে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় আছে জামায়াত-শিবির। এই দলটির পক্ষে নেই কোন জনসমর্থন। এ অবস্থায় মাঠে নামতে না পেরে অনলাইনের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনগণকে নিয়মিতভাবে বিভ্রান্ত করছে দেশবিরোধী এই অপশক্তি। ফেসবুকে বাঁশেরকেল্লা নামক পেজটির মাধ্যমে সরকারের অবদানকে বিতর্কিত করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে নানা সময় বিভিন্ন মিথ্যাচার এবং গুজব ছড়ানো হয়। লকডাউনকে কেন্দ্র করে আবারও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বাঁশেরকেল্লা পেজে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, করোনাা অন্য রোগের মতোই প্রকৃতির স্বাভাবিক বিষয়। এটা স্বাভাবিক চিকিৎসাতেই ঠিক হয়ে যায়। তাই করোনাকে মেনে নেওয়া উচিৎ। অথচ আমরা জানি যে, করোনায় শ্বাসতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি হয়, ফলে অক্সিজেন সাপোর্ট লাগে। পরিস্থিতি জটিল হলে আইসিইউ সাপোর্ট লাগে। যার অর্থ করোনা এত ছোটখাটো কোন সমস্যা নয়। সচেতন না থাকলে যে কারও মৃত্যুর কারণ হতে পারে এ রোগটি।

বাঁশেরকেল্লা বলছে, গ্রামের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয় না। এটি একটি ভয়াবহ রকমের মিথ্যাচার। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউই। এটি গ্রাম-শহর, যুবক-বৃদ্ধ দেখে আক্রমণ করে না। যেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করবে, ভিড়ে যাবে তারই করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা থকবে।

করোনা টিকা নিয়েও ভয়াবহ গুজব ছড়াচ্ছে বাঁশেরকেল্লা। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে সরকার। অথচ এই টিকায় মানুষের মৃত্যু হয় বলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জামায়াত-শিবিরের মুখপাত্র বাঁশেরকেল্লা। যেখানে বিশ্বের অসংখ্য দেশ টিকা পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই অবস্থায় বাংলাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বেশ ভালোভাবে চলছে। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে মানুষকে টিকা নিতেই বিভ্রান্ত করছে বাঁশেরকেল্লা।

বিশ্লেষকরা জানান, রাজনৈতিকভাবে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়ে অনলাইনে গুজব কেন্দ্রিক রাজনীতিই জামায়াত-শিবিরের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই লকডাউন নিয়েও অপপ্রচারে নেমে এই অপশক্তি। এদের অপপ্রচারে কান না দিয়ে জনগণকে সরকারের ঘোষিত লকডাউন মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এবং লকডাউনে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ালে করোনা আরও বাড়বে। তখন সরকারকে বাধ্যে হয়ে আরও কঠোর লকডাউনে যেতে হবে। আর সাত দিনের ঘোষিত লকডাউন মেনে চললে পরে আর লকডাউনের দরকার হবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি