শনিবার ১৫ মে ২০২১



মনোবল হারিয়ে ফেলছেন খালেদা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
16.04.2021

নিউজ ডেস্ক: করোনায় আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একা হয়ে পড়েছেন। এই দুঃসময়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠজন সবাই তাকে এড়িয়ে চলছেন। এ অবস্থায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন খালেদা জিয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনায় মনোবল শক্ত রাখা খুবই জরুরি। এমনিতেই বয়স্কদের জন্য করোনা মরণঘাতী রোগ। খালেদা জিয়ার বয়স ৭৪ বছর। প্রশ্ন উঠেছে, মনোবল হারিয়ে ফেললে করোনা থেকে তিনি কি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন?

সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ই এপ্রিল করোনা পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নমুনা দেন। পরদিন ১১ই এপ্রিল জানা যায় তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রীকে সরকার মানবিক কারণে মুক্তি দিলেও শর্ত ভঙ্গ করে গুলশানের বাসভবনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে মেলামেশার ফলেই করোনায় আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। জানা গেছে, খালেদা জিয়া ছাড়াও তার বাসায় আরো আটজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত সবই গত একমাসে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সংস্পর্শে এসেছেন।

খালেদার গুলশানের বাসভবনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক কাজে এতদিন নেতাকর্মীরা আসলেও এখন খালেদার করোনায় আক্রান্তের খবর শুনে সবাই দূরত্ব বজায় রাখছেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নিজেদের শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে খালেদার খবর নিতেও আসছেন না। আর পরিবারের সদস্যরাও নানা অজুহাতে ‘ফিরোজা’য় আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে মনোবল হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বারবার বলছেন, এতদিন সবাই নিয়মিত আসলো, এখন আমার অসুস্থতার খবর পেয়ে সবাই দূরে সরে গেল। তাহলে কী সবাই যার যার স্বার্থেই তাহলে আমার কাছে আসত?

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান, গত রাতে তার (খালেদা জিয়ার) জ্বর ১০০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও জ্বর কিছুক্ষণের জন্য ১০০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় তার মনোবল ধরে রাখা জরুরী।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ম্যাডামের অবস্থা বেশি ভালোও না, আবার খারাপও না। তবে এই অবস্থায় ওনার একা থাকাই ভালো। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও বয়স্ক। তারা নিজেরাও করোনায় আতঙ্কে আছেন। ম্যাডামের সাথে দেখা করতে না যাওয়া মানেই আমরা দূরে সরে গেছি তা নয়।

জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই খালেদার সাথে আছেন তার বিশ্বস্ত গৃহকর্মী ফাতেমা। যদিও ফাতেমা নিজেও করোনায় আক্রান্ত। এই অবস্থায় সে নিজেও খালেদার সেবা করতে পারছে না তেমন। তবে সেবার চেয়েও এখন মনোবল জরুরী। যেটা আপনজন ছাড়া অন্য কেউই দিতে পারে না। কিন্তু খালেদা জিয়ার পাশে এই মুহূর্তে কোন আত্মীয় স্বজন নেই।

খালেদার ছোট বোন সেলিমা ইসলাম বলেছেন, আমরা তো খোঁজ খবর রাখছি। আমি নিজেও অসুস্থ, আমার বয়স হয়েছে। এই অবস্থায় আপার কাছে কীভাবে যাব? দূর থেকে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছি। কিন্তু এই অবস্থায় লন্ডন থেকে তারেক তার বউ এসে আপার পাশে থাকলে হয়ত উনি মনে শক্তি পেতেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি কেমন রাজনৈতিক দল এটা তাদের নেত্রীর অসুস্থতার পর বোঝা যাচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন অসুস্থ কিন্তু কোন নেতা তার পাশে নাই। এমনকি নিজের সন্তানরাও পাশে নেই। তার সন্তান তারেক বিএনপির আদর্শই ধারণ করে। আর বিএনপির আদর্শ হল, নিজের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই ক্ষমতায় থাকার সময় এরা সবাই খালেদার পাশে ঘুরঘুর করত, এখন দুঃসময়ে কেউই তার পাশে নেই। এই ধাক্কা খালেদার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি