মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Breaking » ইলিয়াস আলীকে গুম করে বিএনপিরই কিছু নেতা, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস!



ইলিয়াস আলীকে গুম করে বিএনপিরই কিছু নেতা, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.04.2021

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। নিখোঁজের ৯ বছর পর মির্জা আব্বাস জানালেন, ইলিয়াস আলীকে আওয়ামী লীগ সরকার গুম করেনি, বিএনপিরই কিছু নেতা তাকে গুম করে। মির্জা আব্বাসের এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে ইলিয়াস আলীর গুম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে দোষারোপের রাজনীতির এক নোংরা অধ্যায়ের উন্মোচন হল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা এবং ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে শনিবার বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার আসল রহস্য ফাঁস করেন। সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মেলনী–ঢাকার উদ্যোগে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘আমি জানি আওয়ামী লীগ সরকার গুম করেনি। একজন জলজ্যান্ত তাজা রাজনৈতিক নেতা গুম হয়ে গেল দেশের অভ্যন্তর থেকে। যারা করল, তাদের কি বিচার হতে পারে না? যারা করেছে, তারা এই দেশের স্বাধীনতা চায় নাই?’ মির্জা আব্বাস বলেন, দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ব্যক্তিদের অনেকেই চেনেন।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। এত দিন বিএনপি অভিযোগ করে আসছিল, তাকে সরকারই ‘গুম’ করে রেখেছে। ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে সে সময় সিলেটের বিশ্বনাথে সপ্তাহব্যাপী হরতালও পালন করে বিএনপি।

ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া প্রসঙ্গে দলের মহাসচিবের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয় মারাত্মক রকমের। ইলিয়াস খুব গালিগালাজ করেছিলেন তাকে। সেই যে পেছন থেকে দংশন করা সাপগুলো, আমার দলে এখনো রয়ে গেছে। যদি এদের দল থেকে বিতাড়িত না করেন, তাহলে কোনো পরিস্থিতিতেই দল সামনে এগোতে পারবে না।’

ইলিয়াস আলীর গুমের খবর ওই দিন রাত দেড়টা থেকে পৌনে দুইটায় পেয়েছিলেন জানিয়ে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, ‘গুমের সংবাদ পাওয়ার পর পরিচিত যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ইলিয়াস আলীকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

ইলিয়াস আলীর এই মন্তব্যের পর বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, আমরাও ওই সময় ঘটনা কিছুটা জানতাম। সিলেটের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়েই মূলত ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। সিলেটের এক নেতা যে ইলিয়াস আলীর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সেই এর পেছনে দায়ী। যদিও আমরা এর প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারেক রহমানের নির্দেশে ওই সময় চুপ থাকতে হয়েছিল। তারেক রহমানকে ঘটনা জানালে, তিনি গুমের জন্য সরকারকে দায়ী করে আন্দোলন শুরু করতে বলেছিলেন। তারেক বলেছিলেন, এতে বিএনপির লাভ হবে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যাবে। এজন্যই অন্যায় হলেও আমরা মুখ খুলতে পারিনি।

এতদিন কেন মুখ খোলেননি প্রশ্ন করলে বাংলা নিউজ ব্যাংককে মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমান চুপ থাকতে বলেছিলেন। বিএনপির লাভ হবে ভেবে কিছুই বলিনি। কিন্তু এই অন্যায় লুকিয়ে রেখেও তো দলের কোন লাভ হয়নি। বরং ইলিয়াস আলীর স্ত্রী, পরিবার মানসিকভাবে অসহনীয় দিন পার করেছে। বিবেকের দংশনে মুখ খুলতে বাধ্য হলাম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, মির্জা আব্বাসের স্বীকারোক্তির পর জঘন্য এই ঘটনা সম্পর্কে সব মিথ্যার অবসান হল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে একজন নেতাকে নিজেরাই গুম করে সরকারকে দোষারোপ করেছে বিএনপি। একটা দলে ন্যুনতম নৈতিকতার চর্চা থাকলে এটা সম্ভব ছিল না। সরকারের উচিৎ মির্জা আব্বাসসহ যারা যারা এই ঘটনা জানেন, তাদের ধরে আসল ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা। তাহলে বিএনপির নোংরা রূপ সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। নিজ দলের নেতাকে গুম করে যে দল রাজনীতি করে সে দলের ওপর কোনভাবেই জনগণের বিশ্বাস স্থাপন করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির মত চরম নোংরামির চর্চাকারী দলকে বর্জন করতে জনগণের প্রতি আহবান জানান তারা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি