মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » বিএনপির পরামর্শে সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ছাত্রদের উসকে দেন মামুনুল!



বিএনপির পরামর্শে সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ছাত্রদের উসকে দেন মামুনুল!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.04.2021

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। গত মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজত নেতাকর্মীদের তাণ্ডবের বিষয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। রিমান্ডে থাকা মামুনুল হক পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সরকার উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে বিএনপি-জামায়াতের পরামর্শেই কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের উসকানি দিয়ে মাঠে নামিয়েছিলেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার মো. হারুন অর রশিদ। মামুনুল জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে হেফাজতের সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারবে না।

উপ-কমিশনার মো. হারুন বলেন, মামুনুল হকের পেছনে যাদের মদদ সেটিও ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞেস করা হবে এবং তাকে যারা ইন্ধন দিয়েছেন কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, রিমান্ডে মামুনুল হক অনেক তথ্য দিয়েছেন। সবকিছু নিরাপত্তার স্বার্থে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়নি। তবে নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে বাংলাদেশে সহিংসতা চালাতে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েই যে মামুনুল মাদ্রাসার ছাত্রদের তাণ্ডবে নামান তা স্বীকার করেছেন। তারেক তাকে বলেছিলেন, মোদির সফরের সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের ধর্মীয় আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে মাঠে নামানো সহজ হবে। মামুনুল হেফাজতের কিছু কট্টর নেতাদের নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রদের দিয়ে রাজপথ গরম করলেই এরপর বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা দেশজুড়ে নেমে পড়বে। এরপর দেশে অরাজকতা তৈরি করে বিশ্বকে দেখানো হবে, বিদেশি অতিথির আগমনের সময় দেশে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে। এরপর আন্তর্জাতিক চাপে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে এত বড় রিস্ক নিতে চাননি মামুনুল। পরে তারেক তাকে বলেন, সরকারের পতন হলে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি-জামায়াত। এরপর আন্দোলনে ভূমিকার জন্য মামুনুলকে তিনি মন্ত্রী করবেন। মূলত মন্ত্রী হওয়ার লোভ সামলাতে পারেননি মামুনুল।

হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা আহমদ শফীর পুত্র আনাস মাদানী বলেন, বাবুনগরী এবং মামুনুল হকের উদ্দেশ্য ক্ষমতায় যাওয়া। এই দুইজনই ক্ষমতালোভী। ক্ষমতার জন্য এরা আল্লামা শফীকে হত্যা করে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে আমাকে বের করে দিয়েছে। এরপর জোর করে হেফাজতের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অবৈধ কাউন্সিলের মাধ্যমে হেফাজতের আমীর হন বাবুনগরী। ওই কমিটিতে বাবুনগরী এবং মামুনুল জামায়াত-শিবিরপন্থি অনেক নেতাকে পদ দেন। তখনই তাদের উদ্দেশ্য আমরা বুঝেছিলাম। মোদির আগমনের বিরোধিতা আমরাও করেছি। কিন্তু এই বিরোধিতার নাম করে সরকার পতনের জন্য মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করা জঘন্য অপরাধ। ক্ষমতালোভী মামুনুল-বাবুনগরী নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এতগুলো ছেলের জীবন কেড়ে নিল। এই দুই ক্ষমতালোভীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি