মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » মির্জা আব্বাসের কারণে দুই ভাগে বিভক্ত বিএনপি



মির্জা আব্বাসের কারণে দুই ভাগে বিভক্ত বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.04.2021

নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ নয় বছর আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এম ইলিয়াস আলী ‘গুম’ হওয়ার বিষয়টির দায়ভার বিএনপির ওপর চাপিয়ে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
এরপর থেকে বিএনপির একটি পক্ষ রীতিমত মির্জা আব্বাসের ঘাড়ে চেপে বসেছেন। তারা ইতিমধ্যে মির্জা আব্বাসের কাছে এ বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে বসেছেন।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের বিষয়টি জানতে চাইতে পারে হাইকমান্ড।

তবে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির রাজনীতিতে ‘বিশ্বস্ত’ বলে পরিচিত নেতা মির্জা আব্বাসের বিরোধী একটি গ্রুপ এই বিষয়টিকে ‘ইস্যু’ বানাচ্ছে। একটি ভার্চুয়াল সভায় স্বভাব সুলভ বক্তব্য দেন আব্বাস। বিষয়টি নিয়ে যতটা না জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা আছে, তার চাইতেও বেশি ঘাঁটছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুই ‘নবীন’ সদস্য।

দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে মির্জা আব্বাসকে চিঠি দেন। তবে তাকে শোকজ করার যে গুজব তা সঠিক নয়। জানা গেছে, মির্জা আব্বাসকে দেওয়া ওই চিঠিতে তার বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন ৯ বছর হয়েছে। এই সময়ে তাকে গুমের বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দেশে ও বহির্বিশ্বে জনমত গড়ে ওঠেছে। এ ব্যাপারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে মির্জা আব্বাসকে বলা হয়, আপনার বক্তব্য এই জনমতকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলের নেতাকর্মীরা আপনার বক্তব্যের ব্যাপারে আপনার কাছে ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছে যে আপনি কী বলতে চেয়েছিলেন।

এদিকে, আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন। স্থায়ী কমিটির তিন সিনিয়র সদস্য বিষয়টি মির্জা আব্বাসের স্বভাব সুলভ বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ বলে মত দিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের বক্তব্যে তারেক রহমানও আশ্বস্ত হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি জিইয়ে রাখেন স্থায়ী কমিটির দুই নবীন সদস্য। দলে তারা এখন অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে পরিচিত। তারা মূলত চাইছেন এই সুযোগে মির্জা আব্বাসকে দল থেকে হটিয়ে দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নিতে। অপরদিকে সম্পূর্ণ বিষয়ে শুধু ক্ষতি বিএনপির হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এমনিতেই বিএনপি ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে, এমতাবস্থায় মির্জা আব্বাস বনাম নবীনদের দ্বন্দ্ব বিএনপির শক্তিকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করলো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি