মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১



ভেঙে দেয়া হতে পারে হেফাজতের বর্তমান কমিটি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.04.2021

নিউজ ডেস্ক : সারাদেশে ব্যাপক তাণ্ডবের পর সমালোচিত হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দেয়া হতে পারে। জানা গেছে, সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে আনার পাশাপাশি কওমি মাদরাসার ওপর থেকে দলটির একক কর্তৃত্ব বন্ধের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কওমি মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত নেবে নির্ধারিত বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। মাদরাসা পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না হেফাজতে ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংগঠনটির নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে যিনি সব মহলে গ্রহণযোগ্য এবং আল্লামা শফীর অনুসারী। কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে থাকতে পারবেন না, তাদের অবশ্যই রাজনৈতিক দলের পদ ছাড়তে হবে। তাই এ অবস্থায় যেকোনো সময় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়া হতে পারে।

পুলিশ সূত্র জানায়, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এসে হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন এরই মধ্যে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে এখন বিভিন্ন মামলায় ৪৭০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলমান আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। দলটির সবচেয়ে আলোচিত যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ শীর্ষ ৯ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, এ অবস্থায় সরকারবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে উল্টো সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চাচ্ছে দলটি। তবে দেশজুড়ে সহিংসতায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু দলটির সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হেফাজতের কমিটিতে যুক্ত হতে থাকেন। এছাড়াও দলটির নতুন নেতৃবৃন্দ সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি