মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Breaking » ব্রেকিং নিউজ: পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে টাকা আসতো মামুনুলের কাছে



ব্রেকিং নিউজ: পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে টাকা আসতো মামুনুলের কাছে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.04.2021

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ঢাকা সফরে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনের জন্য পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে টাকা আসতো মামুনুলের কাছে। সেই টাকা ব্যায় করে মাদরাসা ছাত্রদের দিয়ে করানো হয় আন্দোলন। আর এসব করিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

তার পরিকল্পনা ছিল মোদীর সফরবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের সহযোগিতা নিয়ে সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা। এসব করতে মামুনুলকে টাকা দিয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশন, বিএনপি-জামায়াত।

এমনটিই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস। তারা বলেছে, এই আন্দোলন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছেন লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।

ঢাকা সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে ইকোনমিক টাইমস। দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর লেখা এ প্রতিবেদন শুক্রবার দৈনিকটির অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে হেফাজত যে সহিংসতা চালিয়েছে, তা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শলাপরামর্শের ভিত্তিতেই হয়েছে। আর তহবিল এসেছে পাকিস্তান থেকে। বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর কাছ থেকে এই অর্থ পৌঁছে দেয়া হয় মামুনুলের কাছে। এছাড়াও আফগানিস্তানে (তালেবানদের পক্ষ হয়ে) যুদ্ধ করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জিহাদিদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করতো মামুনুল। জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য মামুনুলই দিয়েছেন বলে দাবি করে ইকোনমিক টাইমস।

মামুনুল হককে ১৮ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ এপ্রিল তাকে একটি মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এতে তার ব্যক্তিগত জীবনেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তিনি তিন বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে ছাড়া অন্য দুটির নিবন্ধিত কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশের হাতে কিছু নথিপত্র এসেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদীর ঢাকা সফরের এক মাস আগেই দেশজুড়ে নাশকতা চালানোর ছক আঁকা হয়। সেই ছক অনুসারে উপাসনালয়, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এই নাশকতা চালানোর অর্থ প্রথমে আসে পাকিস্তান থেকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসী কিছু বাংলাদেশি সরকারবিরোধী সমাবেশ ও কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে, হেফাজতের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী নিয়মিতই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে লন্ডনে থাকা খালেদা জিয়ার ছেলে (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন) তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বাবুনগরী ও মামুনুল। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা ছিল তারেকের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হেফাজতের ২০১৩ সালের তাণ্ডবের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ অন্যদের আসামি করে আরেকটি মামলা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা।

এদিকে, মামুনুলকে রিমান্ডে নেয়ার পরদিন মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিং করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, রিমান্ডে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি জানিয়েছেন- তিনি কওমি মাদরাসার ছাত্রদের উসকানি দিয়ে মাঠে নামিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। হেফাজতের নেতাকর্মীদের উসকানি দিতেন মামুনুল।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি