মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » মামুনুলের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিম!



মামুনুলের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিম!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.04.2021

হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের শ্বশুরের আপন ভায়রা ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মেজর ডালিম। মামুনুলের মাধ্যমেই এদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় খুনি মেজর ডালিম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা জানান, যতটুকু জানি ডালিমের আত্মীয় আমাদের মামুনুল সাহেব। তিনি প্রায়ই স্কাইপের মাধ্যমে ডালিমের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। মামুনুলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলতেন। অনুদান পাঠাতেন আমাদের সংগঠনকে। এছাড়াও ২০ দলীয় জোটের সাথে লিঁয়াজো রক্ষা করতেন আমাদের মামুনুল সাহেবের মাধ্যমে এমনটাই জানি। অন্যান্য দলকে টাকা পাঠাতেন কিনা সেবিষয়ে আমি সঠিক বলতে পারছি না।

এদিকে বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য খুনি ডালিম তার আত্মীয় হেফাজত নেতা মামুনুলের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বড় অংকের অর্থ সহযোগিতা পাঠাতেন। যা দেশে সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হতো।

রোববার বিকালে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডে থাকা মামুনুল হকের বিষয়ে সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে ৪০ দিন অবস্থান করেন মামুনুল হক। সেখান থেকে জঙ্গি ও উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। মামুনুল হক হেফাজতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফয়দা নেয়ার পায়তারা করছিল। রিমান্ডে শাপলা চত্বরে যাওয়া থেকে শুরু করে অনেক কথার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

ডিসি হারুন বলেন, মামুনুলের আপন ভগ্নিপতি মুফতি নেয়ামতউল্লাহ দীর্ঘদিন পাকিস্তানে ছিলেন। সেখানে ১৫/২০ বছর সেখানে তিনি একটি মাদ্রাসায় ছিলেন। পাকিস্তান থেকে ফিরে নেয়ামমউল্লাহ মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি মামুনুলের বোনকে বিয়ে করেন। ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন নেয়ামতউল্লার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার পর নেয়ামতউল্লাহ গ্রেফতারও হয়েছিলেন। মামুনুলের হকে বাবা আল্লামা আজিজুল হক (নেয়ামতউল্লার শ্বশুর) ছিলেন চারদলীয় নেতা। তার আনুকূল্যে তখন নেয়ামতউল্লাহ ছাড়া পান। তাজউদ্দিনের সঙ্গেও মামুনুলের যোগাযোগ আছে।

পরের বছর নেয়ামউল্লাহর সঙ্গে মামুনুল পাকিস্তানে গিয়ে ৪৫ দিন অবস্থান করে জানিয়ে ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, পাকিস্তানের একটি ধর্মীয় সংগঠনকে মডেল হিসেবে নিয়ে পাকিস্তানে দীর্ঘদিন তারা অবস্থান করেন। মূলত নেয়ামউল্লাহ দীর্ঘদিন পাকিস্তানে থাকার কারণে সেই সংগঠনের সঙ্গে লিয়াজো ছিল। তিনিই মামুনুলকে ওই সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। ওই সংগঠনের মডেলে তিনি বাংলাদেশে মওদুদী, সালাফি, হানাফি, কওমী, দেওবন্দী, জামায়াতসহ সকল মতাদর্শের মানুষকে একত্রিত করার চেষ্টা শুরু করেন। লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধিতাকারী সংস্থার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে সরকার উৎখাতের ছক এঁকেছিল হেফাজত নেতা মামুনুল হক।

এর আগে ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। গ্রেফতারের পরের দিন মামুনুলকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি