মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » হেফাজতের তাণ্ডবের ব্যাকগ্রাউন্ডে যেভাবে ছিলেন খুনি ডালিম



হেফাজতের তাণ্ডবের ব্যাকগ্রাউন্ডে যেভাবে ছিলেন খুনি ডালিম


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.04.2021

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া হেফাজতে ইসলামের নেতারা জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য দিচ্ছেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকার সফরকে ঘিরে তাণ্ডব চালানো হেফাজতে ইসলামের পেছনে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছেন মামুনুল হক।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অন্যতম মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম অনেক বছর ধরে পলাতক। কোনো হদিস নেই তার। অথচ তার নামে ওয়েবসাইট খুলে বঙ্গবন্ধু হত্যার যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা চলছে ২০১০ সাল থেকে। মেজরডালিমবিইউবাংলাডটকম (majordalimbubangla.com)) নামে একটি ওয়েবসাইটকে মেজর ডালিমের অফিশিয়াল সাইট বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া মেজরডালিমবিইউডটকম (majordalimbu.com) নামে আরো একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।

২০১০ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে গোড্যাডিডটকমের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মেজর ডালিম ফ্যানপেজ’সহ মেজর ডালিম নামে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। সেগুলোতেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকে যৌক্তিক দাবি করাসহ তাঁর বিভিন্ন নীতি এবং বর্তমান সরকারকে উত্খাত করার ডাক রয়েছে। ডালিমের ওয়েবসাইটে তাঁর জীবনী প্রকাশিত হয়েছে। তাতে উল্লেখ আছে, বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পদে কয়েক দফা দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর দেশে ফিরে তিনি নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম এই খুনি কবে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এর উল্লেখ নেই সেখানে। ধারণা করা হয়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার আগেই দেশ ছাড়েন ডালিম।

২০০৯ সালের শেষ দিকে ডালিম কানাডায় গিয়েছিলেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, কানাডা থেকে কয়েক দিন পরই হংকং হয়ে তিনি পাকিস্তানে যান। তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। ডালিমের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট আর কোনো তথ্য জানা যায় না।

২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর একই পরিণতির আশঙ্কায় ডালিমসহ ছয় খুনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছেন। ফেরারি এই ঘাতকরা নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এর পক্ষে জনমত সৃষ্টির যে চেষ্টা করছেন এর প্রমাণ মেলে ডালিমের ওয়েবসাইটে। সেখানে ডালিমের লেখা বই ‘যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি’র বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ তুলে ধরা হয়েছে। ডালিমের লেখা ২০০৫ সালের কিছু নিবন্ধও রয়েছে সাইটে।

১২ আগস্টই চূড়ান্ত হয়েছিল পরিকল্পনা : ডালিমের আত্মজীবনীমূলক ওই গ্রন্থেই স্পষ্ট যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে উত্খাত করার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তবে ওই ন্যক্কারজনক ও নৃশংস ঘটনাকে বরাবরই ‘বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি এর সাফাই গেয়েছেন। বইয়ে উল্লেখ রয়েছে, ১২ আগস্টই ঠিক করা হয়েছিল ১৫ আগস্ট ভোরের দিকে বঙ্গবন্ধুকে ‘উত্খাত’ করা হবে। ১৫ আগস্ট তারিখটি বেছে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত কারণও ডালিম তুলে ধরেছেন। ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান এবং শেরে বাংলানগরে এমপি হোস্টেল ঘিরেই সে রাতে তৎপর থাকার কথা ছিল পুলিশ ও স্পেশাল স্কোয়াডের। টহল দেওয়ার জন্য রক্ষী বাহিনীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোতায়েন করা হবে—এমন ধারণাও ছিল পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়। রক্ষী বাহিনীর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান ও উপপরিচালক কর্নেল সাব্বিউদ্দিন ১৫ আগস্ট ঘটনাচক্রে একসঙ্গে দেশের বাইরে ছিলেন। বাকশালের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই সেদিন ছিলেন ঢাকায়। এদিকে সেনাবাহিনীর ঢাকা ব্রিগেডে ১৪ ও ১৫ আগস্ট রাত ট্রেনিংয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। অন্যদিকে ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন নিয়ে ভারত ব্যস্ত থাকবে বলেও অনুমেয় ছিল। এসব সমীকরণ মিলিয়ে হামলার জন্য ১৫ আগস্টকেই বেছে নিয়েছিলেন ডালিমের মতো বিপথগামী কিছু সামরিক কর্মকর্তা।

এ ছাড়া শেখ মুজিবকে উত্খাত করার পাশাপাশি জাতীয় সব নেতাকে বন্দি করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল ঘাতকরা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, সেনানিবাসের সব ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে সতর্ক রাখা এবং সীমান্তে দৃষ্টি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

ভারত ও রাশিয়ার ওপর ক্ষোভ : শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ভারত ও রাশিয়ার সখ্যে ক্ষুব্ধ ছিল ঘাতকচক্র। এ কারণেই শেখ মুজিবকে হত্যার প্রথম কারণ হিসেবে তারা স্থান দিয়েছিল বাংলাদেশকে ভারত ও রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত করার বিষয়টিকে। এ ছাড়া মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা’, বাকশাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং সর্বদলীয় অস্থায়ী/নির্দলীয় সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করছেন ডালিম।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি