মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১



যেভাবে হেফাজত দখল করে জামায়াত


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.04.2021

নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে যে হেফাজত রয়েছে সেটি আসলে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন এমনটি মনে করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দারা। হেফাজতের একাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে এই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

হেফাজতকে দখল করে জামায়াত সরকারবিরোধী একটা আন্দোলন তৈরি করতে চাচ্ছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গত নভেম্বর মাসে হেফাজতের নতুন নেতৃত্ব আসে। জুনায়েদ বাবুনগরীকে হেফাজতের আমীর করা হয়।

এই নতুন নেতৃত্ব আসার পরই হেফাজতের চরিত্র পাল্টে যায় এবং তাদেরকে আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায় হেফাজতের মধ্যে। জুনায়েদ বাবুনগরী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাস্কর্য ইস্যুতে মাঠে নামে। এরপর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তারা সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব সৃষ্টি করে। এই তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে আছেন অন্তত ৮ জন নেতা। এই নেতৃবৃন্দকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে যখন সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় তখনই হেফাজতকে টার্গেট করেছে জামায়াত ইসলাম। জামায়াত ইসলাম তার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় থাকা লোকজনকে হেফাজতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করে। জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে জামায়াতের আগে থেকে ভালো সম্পর্ক ছিল। মামুনুল হকের বাবা ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ছিলেন।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যারা বিএনপি-জামায়াত ঘরনার তাদেরকে হেফাজতমুখী করা হয় এবং হেফাজতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করা হয়। জামাতের মূল পরিকল্পনা ছিল হেফাজতকে দখল করা। আর এই দখল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল আহমদ শফী এবং তার পক্ষের লোকজন।

তারা মনে করত যে, সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমেই হেফাজত আরো এগোতে পারে। এর মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার দাবি-দাওয়া এবং অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আর এই লক্ষ্যেই আহমেদ শফী সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

তবে অন্য একটি সূত্র বলছে যে, সরকারের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা তিনি কিছুদিন আগে মারা গেছেন তার সঙ্গে আহমদ শফীর একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই হেফাজতের সঙ্গে সরকার একটা সমঝোতামূলক সম্পর্ক তৈরি করেছিল।

এই সমঝোতা নষ্ট করে হেফাজতকে করাই ছিল জামায়াতের মিশন এবং সেই লক্ষ্যেই আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়। জামায়াতের পক্ষের নতুন নেতৃত্বকে ঢেলে সাজানো। নতুন নেতৃত্বে জামায়াত, জুনায়েদ বাবুনগরী এবং প্রয়াত মহাসচিব কাশেমীসহ পুরোটাই ছিল জামায়াত মনোভাবাপন্ন এবং জামায়াতের ঘনিষ্ঠ।

একাধিক সূত্র বলছে যে, জামাতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে বিএনপি হেফাজতকে ব্যবহার করা খুব সহজ হয় এবং জামায়াতের মাধ্যমেই বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে বিএনপি। জামায়াতের যেহেতু প্রকাশ্যে কর্মতৎপরতা, কর্মকাণ্ড বন্ধ তাই তারা হেফাজতের ঘাড়ে ভর করে এই ইস্যুগুলো তুলতে চায়।

জানা গেছে যে, হেফাজত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনে যখন যায় তখন হেফাজতের অধিকাংশ নেতারা এই ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু জামায়াতের চাপে জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হক মূলত এই আন্দোলনের ব্যাপারে উস্কানি দেন।

একইভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতাও ছিল সম্পূর্ণভাবে জামায়াতের চিন্তাপ্রসূত ব্যাপার। হেফাজতকে আসলে জামাত দখল করে ফেলেছে এবং বাইরে সংগঠনের নাম হেফাজত হলেও এটি জামাতের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই এখন কাজ করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি