মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » সারাদিন মদ-নারীতে ডুবে থেকে রাতে ফেসবুকে এসে সরকারবিরোধী অপপ্রচার শুরু করেন ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ



সারাদিন মদ-নারীতে ডুবে থেকে রাতে ফেসবুকে এসে সরকারবিরোধী অপপ্রচার শুরু করেন ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.04.2021

নিউজ ডেস্ক: সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত একটি মহল গত কয়েক বছর ধরেই দেশ-বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে রাজনৈতিকভাবে রাজপথে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে অনলাইনে গুজব-অপপ্রচারের অপকৌশল গ্রহণ করেছে দেশবিরোধী এই অপশক্তি। এই অপশক্তি বিভিন্ন সময় সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শত শত কোটি টাকার বিনিময়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও গুজব প্রচার করেছে। জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের পেইড কয়েকজন এজেন্ট এই গুজব সেলের সদস্য হিসেবে নিয়োজিত আছেন। বিএনপির গুজব সেলের পেইড এজেন্টদের মধ্যে দেশের তথ্য পাচারকারী তথাকথিত সাংবাদিক তাসনিম খলিল, কনক সরওয়ার, চরিত্রহীন সাংবাদিক ইলিয়াস, কর্নেল (অবঃ) শহিদ নিজেদের কুকীর্তির মাধ্যমে ভণ্ড হিসেবে ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। এই চক্রের সাথে নতুন করে কানাডা থেকে নতুন যুক্ত হয়েছেন আরেক প্রতারক ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ ইসলাম। যিনি বাংলাদেশ থেকে সাধারণ জনগণের বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র ব্যবসা ও জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের বিরুদ্ধে। এই প্রতারক সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

সূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ চাকরিরত অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত। দুর্নীতির দায়ে চাকুরি গিয়েছিল এই প্রতারক ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের। দেশে থাকাকালীন ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নারী কেলেঙ্কারির দায়ে তার শাস্তি হয়। এরপর বিএনপি-জামায়াতের সহায়তার দেশ ত্যাগ করে কানাডায় যান। সেখানে গিয়েও চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেনি এই প্রতারকের। কানাডার বাংলাদেশ কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলা বেশিরভাগ সময়ই মদের নেশায় ডুবে থাকেন এই প্রতারক। এছাড়াও কচি কচি মেয়েদের প্রতি তার নেশা রয়েছে। তাই প্রায় সময়ই কানাডার রেড জোনে তাকে দেখা যায়।

জানা গেছে, বিগত কিছুদিন ধরেই হলুদ সাংবাদিক কনক সরওয়ারের ইউটিউবের কয়েকটি লাইভ অনুষ্ঠানে এসে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার প্রধান, সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্গান সম্পর্কে গুজব রটিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তারেক রহমানের কাছ থেকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মিশনে নেমেছেন এই নারী লোভী ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ।

কানাডা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে তারেক রহমানের মাধ্যমে। ভাইয়া আমাকে বলেছিলেন, ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ সাহেব আমাদের পক্ষে অনলাইনে প্রচার চালাবেন। সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে কানাডা বিএনপির নেতাদের সহযোগিতা চান ভাইয়া। সে অনুযায়ী আমরা তাকে সাহায্য করছি। কিন্তু গত কিছুদিন যাবত ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের বিরুদ্ধে মদ এবং নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জার। কানাডা একটি পশ্চিমা দেশ হলেও আমরা তো বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সুতরাং মদ এবং নারীর সাথে অবৈধ মেলামেশা খারাপ। ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের মদ-নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি কানাডার বাঙালি কমিউনিটিতে বিএনপির জন্য দুর্নাম বয়ে আনছে। উনাকে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও উনার চরিত্রে পরিবর্তন হয়নি।

ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের এক প্রতিবেশী বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, আমি ওনার কথা শুনে ভদ্রলোক ভেবেছিলাম। যেহেতু দেশি ভাই, প্রায়ই কথা বলতাম। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখি উনি কথা বলার সময় বেশ বেসামাল থাকেন। জানতে চাইলে তিনি মাঝেমধ্যে মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু একদিন ওনাকে রেড জোনে আবিষ্কার করে আমার চক্ষু চড়কগাছ। ভাবতেই পারিনি ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের মত এরকম বয়স্ক একজন লোক অবৈধ নারী সঙ্গে লিপ্ত। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলেন, ভাই বিদেশে এসে যদি একটু ফুর্তি না করি, কীভাবে হবে? কবে মরে যাই ঠিক নেই, একটু মজা করে নেই। ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের এই কথার পর তার সাথে কথা বলার রুচি হারিয়ে ফেলেন বলেও জানান ওই প্রতিবেশী।

জানা গেছে, এই প্রতারক শুধু মদ-নারীতেই ডুবে থাকে না। জুয়ার প্রতিও তার বেশ ভালোবাসা রয়েছে। মদ-জুয়ার এসব টাকা লন্ডন থেকে তারেক রহমান সরবরাহ করেন বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে কানাডা বিএনপির এক নেতা বলেন, ভাইয়াকে এসব জানালে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদ সাহেব বেশ জোরালো ভূমিকা রাখছেন। তার এসব ছোটখাটো বিষয়ে তোমরা নজর দিও না।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে জিহাদি বই, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে বাংলাদেশের কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, দেশে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পেরে ক্যাপ্টেন (অবঃ) শহিদের মত কিছু দুশ্চরিত্র-লোভী লোককে ভাড়া করেছে বিএনপি-জামায়াত। এরা টাকার বিনিময়ে সরকারের বিরুদ্ধে গুজব রটিয়ে থাকে। যদিও এদের মুখোশ খুলে যাওয়ায় মানুষ আর এদের কথাকে পাত্তা দেয় না। সরকারের উচিৎ হবে, বিদেশ থেকে যারা যারা বিএনপির টাকা খেয়ে গুজব প্রচার করছে তাদের প্রকৃত চরিত্র দেশের জনগণের সাথে উন্মোচন করা। সেইসাথে দেশবিরোধী এই চক্রের এসব সদস্যকে দেশে নিয়ে এসে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি