মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » তারেক রহমানের নির্দেশে হত্যা করা হতে পারে খালেদাকে



তারেক রহমানের নির্দেশে হত্যা করা হতে পারে খালেদাকে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এখন হাসপাতালে। এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যদিও বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল আছে, তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে রাখা হচ্ছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার কিছু ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তিনি ভালো নেই। তার শারীরিক বিভিন্ন অসুবিধা ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। আর এই প্রকট হওয়ার প্রেক্ষিতেই চিকিৎসকরা তার ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদাপন্থী বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, খালেদাকে হত্যা করতে তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেই শুনেছি। তবে আমরা আমাদের ম্যাডামকে রক্ষা করতে হাসপাতালে অবস্থান করছি।

জানা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার গত কিছুদিন ধরে হৃদরোগ জনিত সমস্যা বেড়েছে। তার ব্লাড প্রেশার উঠানামা করছে এবং ব্লাড প্রেশার অনেক বেশি। তার ডায়াবেটিসও অনিয়ন্ত্রিত হয়েছে, পায়ের ব্যথা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন, করোনার কারণে এই সমস্ত উপসর্গ নয়। বাংলাদেশে যারা করোনা সংক্রমিত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে গবেষণা করে বিভিন্ন চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, যারা উচ্চরক্তচাপে ভুগেন, হৃদরোগজনিত সমস্যা আছে এবং যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস তাদের জন্য করোনা পরবর্তী শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। আর এই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো যে, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে এক ধরণের লুকোচুরি খেলা চলছে। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কি তা সঠিকভাবে কেউই বলতে চাইছেন না।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার অসুস্থতার মাত্রা অনেক গুরুতর। এটি যদি প্রচারিত হয় তাহলে বিএনপির কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। এমনিতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, বিএনপির এক বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার যদি অবনতি হয়, তিনি অসুস্থ হয় এটি যদি বিএনপির নেতাকর্মীরা জানে তাহলে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। বেগম খালেদা জিয়াই এখনো বিএনপিতে ঐক্যের প্রতীক এবং শেষ আসা ভরসার স্থল হিসেবে বিবেচিত হন। কারণ বিএনপির মধ্যে বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী তারেক জিয়ার প্রতি আস্থাশীল নন। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে মনোনয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনের সিদ্ধান্ত, ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানারকম টানাপোড়ন রয়েছে।

তারপরও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপি এখনো ঐক্যবদ্ধ রয়েছে তা মনে করেন বিএনপির সিংহভাগ নেতা। আর একারণেই বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি তারা লুকোতে চাইছে। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা অবশ্য তার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, চিন্তিত। তারা মনে করছেন যে, তার যে শারীরিক অবনতি ঘটছে তার অনুসন্ধান করা দরকার। এজন্য ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনাজনিত যে সমস্ত উপসর্গগুলো সাধারণত দেখা যায় সে সমস্ত উপসর্গগুলো বেগম খালেদা জিয়ার নেই এমনটি স্বীকার করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য। কিন্তু তারপরও বেগম খালেদা জিয়ার এরকম শারীরিক অবনতি ঘটছে কেন তা নিয়ে তাদের উদ্বেগের সীমা নেই।

অনেকেই মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতির পিছেনে করোনার একটি প্রভাব থাকলেও থাকতে পারে। তবে সত্যি সত্যি তিনি করোনার প্রভাবে অসুস্থ কিনা সেটি দেখার বিষয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের চিকিৎসকরা এড়িয়ে চলছেন এবং তারাও একটি ধুম্রজালের মধ্যে রয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে তার একজন চিকিৎসক বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সাধারণত বিদেশেই হয়। কিন্তু করোনাজনিত কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে এখন কোনভাবেই বিদেশে নেয়া যাচ্ছে না। আর এই বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ারে নিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি একটু ভালো হলে, এই রিপোর্টগুলো ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার আবেদন জানালেও জানানো হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কিত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি