বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১



বিলুপ্ত হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

নিউজ ডেস্ক: শুধু কমিটি বিলোপ নয় শেষ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলাম সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কয়দিন আগেই হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিলো এবং তারপর পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে মতবিরোধ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জুনায়েদ বাবুনগরীর কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হেফাজতের মধ্যে। হেফাজতে মধ্যে এখন নানা মত নানা পথ দৃশ্যমান হচ্ছে। আর এসব কারণেই হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠনটি আপাতত বিলোপ করার পক্ষেই মত দিচ্ছে হেফাজতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলেমরা।

গত ২৫ এপ্রিল দেশের সব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। দেশের সব কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের জন্য রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত এই ঘোষণাটি দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামি`আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এদের একটি স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এই আল-হাইআতুল হলো কওমি মাদ্রাসার নীতিনির্ধারক সংস্থা। কিন্তু হেফাজতের উত্থানের প্রেক্ষিতে হেফাজতই হয়ে উঠেছিলো কওমি মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক এবং হেফাজতের কথা অনুযায়ি কওমি মাদ্রাসার সবকিছুই পরিচালিত হতো। এ কারণেই কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম সমাজ এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের একটি বড় অংশের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ এবং অসন্তোষ তৈরি হয়েছিলো। হেফাজতে ইসলাম কোনো কওমি মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নয় এবং কওমি মাদ্রাসার সাথে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তারপরও হেফাজত ইসলামের হয়ে উঠেছিলো কওমি মাদ্রাসার ধারক-বাহক এবং সর্বেসর্বা। এই জায়গায় থেকেই যারা আলেম সমাজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক তাদের একটি বড় অংশই হেফাজতকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তুলেছিল এবং সেই দাবির প্রেক্ষিতেই কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা আল-হাইআতুল হেফাজতের কার্যক্রম বন্ধ করার পক্ষে মতামত দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সহসাই আসতে পারে। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, একটা চমক সৃষ্টির জন্যই হেফাজত তাদের সংগঠন বিলোপের ঘোষণা দিবে এবং এটি একটি সাময়িক ব্যাপার।

কারণ হেফজতের যে, কাঠামো সেই কাঠামোটি বিলুপ্ত করলেও থেকে যাবে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে যে, হেফাজত আদতেই কোনো সংগঠন ছিলো না। এটি ছিলো একটি প্রেসার গ্রুপ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিবর্গ হেফাজতের মধ্যে মিশে ছিলো এবং তাদের কারণেই এটি সঙ্ঘবদ্ধ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিলো। আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী নেতৃত্বে আসার পর হেফাজতের ভেতর খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ছিলো। আর রাজনৈতিক চরিত্র হওয়ার কারণেই হেফাজত ইসলাম আসলে বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলেছিলো। আর সেখান থেকেই হেফাজতের আজকের পরিণতি। তারা মনে করছে যে, হেফাজত ইসলামের এখন ঐতিহাসিক তাৎপর্য নষ্ট হয়ে গেছে। একজন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক বলেছেন, হেফাজতের ঐতিহাসিক প্রয়োজন এখন নেই। কারণ হেফাজত প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য। কাজেই কওমি মাদ্রাসার যখন স্বীকৃতি আদায় হয়ে গেছে তখন এটির ঐতিহাসিক বাস্তবতা সেই। হেফাজতের ১৩  দফা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া। যেহেতু এখন কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল কওমি মাদ্রাসার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে তাই ঐতিহাসিকভাবেই হেফাজতের বিলুপ্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি