মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » হেফাজতের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ চেষ্টা: সতর্কবস্থা



হেফাজতের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ চেষ্টা: সতর্কবস্থা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

নিউজ ডেস্ক: হঠাৎ করেই হেফাজতের কিছু নেতা অতি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছেন। তারা তাদের ওয়াজে বক্তব্যের সুর পালটে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে দেখা যায় যে, বেশকিছু হেফাজতের নেতা মামুনুল হক, বাবুনগরীর তীব্র সমালোচনা করছেন। আওয়ামী লীগ, সরকার এবং শেখ হাসিনার তীব্র প্রশংসা করছেন। একটু খোঁজ নিলে দেখা যায় যে, দুই-তিন মাস আগে তারা সরকারের কঠোর সমালোচনায় ছিল, ভাস্কর্যকে মুক্তি পূজার সামিল বলে ফতোয়া দিয়েছিল, ইউটিউবে তারা ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিল এবং একই সাথে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করেছিল। এখন তারা বোল পাল্টেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে, সারাদেশে হেফাজতের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযানের প্রেক্ষিতে হেফাজতের সুযোগ-সন্ধানী কিছু নেতা এখন বোল পাল্টেছেন। এরা এখন নানাভাবে আওয়ামী লীগে ঢোকার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন হেফাজতের এই নেতারা। এই পরিস্থিতিকে আওয়ামী লীগের একজন নেতা ঠিক ২০১৫-১৬ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তারা বলছেন, ওই সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন শুরু হয় তখন জামায়াতে অনেকেই বাঁচার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার চেষ্টা করে এবং তৃণমূলে ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটে। একইভাবে, ২০১৩-১৪ সালের আন্দোলনে যারা জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর করেছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়েছিল এই মামলাগুলো এড়াতে অনেক জামায়াত এবং বিএনপির নেতা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে। বিশেষ করে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ছিলো চোখে পড়ার মত। আর এই ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণেই পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় এবং এরা আওয়ামী লীগে ঢুকে নানারকম অপকর্ম করেছে এরকম অভিযোগ আসে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একাধিক বক্তৃতায় এসব অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং এদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেয়ার কথা বলেছিলেন। এখন আবার নতুন করে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের এমপি এবং মন্ত্রীদের হেফাজতের ব্যাপারে লোভ রয়েছে। তারা মনে করছেন যে, হেফাজতকে নেয়া মানে রেডিমেড কিছু ভোট পাওয়া, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে করায়ত্ত করা। আর একারণে হেফাজতের নেতারা যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায় বা আওয়ামী লীগে আসতে চায় তাহলে তাদেরকে না করছেন না। আর এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করছেন অনেকে। আর একারণেই আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে সতর্কবস্থা জারি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এখন হেফাজতের এই ধরপাকড়ে অনেকে হেফাজতের নেতাকর্মী এখন আওয়ামী লীগে প্রবেশ করতে চাইবেন এবং আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থেকে কোন অপকর্মের সঙ্গে নিজেদের জড়ানোর চেষ্টা করবেন।

এখন যেন আওয়ামী লীগ আবার হেফাজতের পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয় না দেয় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে গতবারের মত এবারও দেখা গেছে যে আওয়ামী লীগে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক নেতৃবৃন্দ এই হেফাজতকে দলে নিতে আগ্রহী। তারা নানারকমভাবেই হেফাজতকে কাছে টেনে নিতে চাইছে। বিশেষ করে যারা, আওয়ামী লীগ না করে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক পরিচয় দিয়ে এমপি হয়েছেন তারা একটি বিকল্প আওয়ামী লীগ গঠনের জন্য হেফাজতকে পছন্দ করছেন। এদের কেউ কেউ হেফাজতের নেতাকর্মীদের বাঁচানোর জন্য দেন-দরবার, তদবির করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি